তৎকর্ম কৃত্বা বিনিবর্ত্য ভূয়স্তত্ত্বস্য তত্ত্বেন সমেত্য যোগম্ ।
একেন দ্বাভ্যাং ত্রিভিরষ্টভির্বা কালেন চৈবাত্মগুণৈশ্চ সূক্ষ্মৈঃ ॥ ৩ ॥
ব্যাখ্যা—পরমেশ্বরই নিজ শক্তিভূতা মূল প্রকৃতি দ্বারা পঞ্চ স্থূল মহাভূত আদি রচনা করে নিরীক্ষণ করলেন । পশ্চাত্ জড়তত্ত্বের সাথে চেতন তত্ত্বের সংযোগ মাধ্যমে নানা রূপে অনুভূয়মান বিচিত্র জগতের সৃষ্টি করলেন ।(১) অথবা মন্ত্রার্থটি এইভাবে বুঝতে হবে—এক, অবিদ্যা দুই, পুণ্য এবং পাপরূপ সঞ্চিত কর্ম-সংস্কার, সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ—এই গুণত্রয় এবং এক কাল তথা মন, বুদ্ধি, অহংকার, পৃথ্বী, জল, তেজ, বায়ু এবং আকাশ—এই অষ্ট প্রকৃতি ভেদ, এ সবের সাথে তথা অহং-মমত্ব, আসক্তি আদি আত্মসম্বন্ধী সূক্ষ্ম গুণসমূহের সঙ্গে জীবাত্মার সম্বন্ধ স্থাপন করে পরমেশ্বর এই জগতের রচনা করেছেন । উভয় প্রকার বর্ণনার তাৎপর্য একই॥ ৩ ॥
(১)এটির বিস্তারিত বর্ণনা তৈত্তিরীয়োপনিষদের ব্রহ্মানন্দবল্লী অনুবাক ১ এবং ৬, ঐতরেয়োপনিষদের প্রথম অধ্যায়ের তিনটি খণ্ডে, ছান্দোগ্যোপনিষদের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ২-৩ খণ্ডে এবং বৃহদারণ্যকোপনিষদের প্রথম অধ্যায় এবং দ্বিতীয় ব্রাহ্মণে বিস্তারিতভাবে উল্লিখিত রয়েছে ।
সম্বন্ধ—এই রহস্য অবগত হয়ে সাধকের কী করণীয় ? এই জিজ্ঞাসায় পরবর্তী মন্ত্রে জানাচ্ছেন—