অঙ্গুষ্ঠমাত্রো রবিতুল্যরূপঃ সংকল্পাহংকারসমন্বিতো যঃ ।
বুদ্ধের্গুণেনাত্মগুণেন চৈব আরাগ্রমাত্রো হ্যপরোঽপি দৃষ্টঃ ॥ ৮॥
ব্যাখ্যা—মানবের হৃদয় অঙ্গুষ্ঠমাত্র । ওই হৃদয়েই জীবাত্মার অধিষ্ঠান । এইজন্য তাঁকে অঙ্গুষ্ঠমাত্র পরিমাণবিশিষ্ট বলা হয়েছে । তাঁর বাস্তবিক স্বরূপ সূর্যের ন্যায় প্রকাশময় (বিজ্ঞানময়) । অজ্ঞান তাঁকে স্পর্শও করতে পারে না । সেই জীবাত্মা সংকল্প এবং অহংকারকে আশ্রয় করেছেন । অতএব, সংকল্পরূপ বুদ্ধির গুণের সঙ্গে অর্থাৎঅন্তঃকরণ এবং ইন্দ্রিয়ের ধর্মে তথা অহংভাব রূপ নিজ গুণে অর্থাৎ অহং-মমত্ব আদিতে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ফলে সূচীর অগ্রভাগের ন্যায় সূক্ষ্ম আকারসম্পন্ন এবং পরমাত্মা হতে জীবাত্মা ভিন্ন । জীবতত্ত্বজ্ঞ জ্ঞানীপুরুষ গুণযুক্ত জীবাত্মস্বরূপের এইরূপই অবলোকন করেছেন ।(১) আত্মার স্বরূপ বস্তুত অতীব সূক্ষ্ম । সূক্ষ্ম অপেক্ষাও সূক্ষ্ম, জড় পদার্থ তার তুলনায় স্থূল । তার সূক্ষ্মতাকে কোনো জড়বস্তুর সাথে তুলনা করা যায় না । কেবল বোঝাবার জন্য লৌকিক দৃষ্টান্ত অবলম্বন করা হয় । হৃদ্দেশে অবস্থানের জন্যই তাঁকে অঙ্গুষ্ঠপরিমাণবিশিষ্ট বলা হয়েছে । বুদ্ধিগুণ তথা আত্মগুণযুক্ত হওয়ার ফলে তাকে সূচীর অগ্রভাগের আকারের সাথে তুলনা করা হয়েছে । বুদ্ধি আদিকে সূচীর অগ্রভাগের সাথে তুলনা করা হয় । এইজন্য জীবাত্মার সূক্ষ্মতা প্রকাশিত হয়েছে সূচীর অগ্রভাগের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে॥ ৮ ॥
(১)শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় কথিত আছে যে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে গমনকারী, শরীরে স্থিরভাবে অবস্থানকারী অথবা বিষয়সমূহ ভোগকারী এই জীবাত্মাকে অজ্ঞ ব্যক্তি জানে না, জ্ঞানীই অবগত হন (১৫ ।১০) ।
সম্বন্ধ—পূর্বমন্ত্রে জীবাত্মার যে স্বরূপ সূচীর অগ্রভাগের ন্যায় সূক্ষ্ম বলা হয়েছে, পুনরায় তার স্পষ্টীকরণ করা হচ্ছে—