অজামেকাং লোহিতশুক্লকৃষ্ণাং বহ্বীঃ প্রজাঃ সৃজমানাং সরূপাঃ ।
অজো হ্যেকো জুষমাণোঽনুশেতে জহাত্যেনাং ভুক্তভোগামজোঽন্যঃ ॥ ৫ ॥
ব্যাখ্যা—পূর্বোক্ত মন্ত্রে যার সঙ্কেত করা হয়েছে ওই দুটি প্রকৃতির মধ্যে একটি হল অপরা । গীতাতেও এটির উল্লেখ আছে (গীতা ৭ ।৪) । এই অপরা নিজ অধিষ্ঠাতা পরমদেব পরমেশ্বরের অধ্যক্ষতায় নিজের সদৃশ অর্থাৎ ত্রিগুণময় অসংখ্য জীবদেহকে উৎপন্ন করে । ত্রিগুণময়ী অথবা ত্রিগুণাত্মিকা হওয়াতে এঁকে ত্রিবর্ণযুক্তা বলা হয়েছে । সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ—এই তিনটি গুণই এঁর তিনটি বর্ণ । সত্ত্বগুণ নির্মল এবং প্রকাশক হওয়াতে তাঁকে শ্বেত বলা হয় । রজোগুণ রাগাত্মক । এইজন্য রজোগুণকে লাল বলা হয় এবং তমোগুণ অজ্ঞানরূপ । সুতরাং তাঁকে কৃষ্ণবর্ণ বলা হয়েছে । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় জীবরূপ পরা অথবা চেতনকে প্রকৃতি (৭ ।৫), ক্ষেত্রজ্ঞ (১৩ ।১) তথা অক্ষর পুরুষ নামে (১৫ ।১৬) বর্ণনা করা হয়েছে । তার দুটি ভেদ । একটি জীব, যে ওই অপরা প্রকৃতিতে আসক্ত হয়ে তার সাথে একাত্ম হয়ে বিভিন্ন ভোগসমূহ নিজ কর্মানুসারে ভোগ করে । দ্বিতীয়টি জ্ঞানী পুরুষের সমুদয় । তাঁরা এই ভোগসমূহকে ভোগের পর নিন্সার, তুচ্ছ, ক্ষণভঙ্গুর মনে করে চিরতরে পরিত্যাগ করেন । এই উভয়বিধ জীব স্বরূপত অজন্মা তথা অনাদি । এইজন্য এঁদের ‘অজ’ বলা হয়েছে॥ ৫ ॥ (১)
(১)সাংখ্যমতাবলম্বী এই মন্ত্রটিকে সাংখ্যশাস্ত্রের বীজস্বরূপ মনে করেন । এই মন্ত্রের আধারে উক্ত দর্শন শ্রুতিসম্মত বলে সিদ্ধ হয় । সাংখ্যের প্রসিদ্ধ টীকাকার তথা অন্যান্য দর্শনসমূহের বিশ্লেষণকর্তা সর্বতন্ত্রস্বতন্ত্র স্বনামধন্য শ্রীবাচস্পতি মিশ্র স্বরচিত সাংখ্যতত্ত্বকৌমুদী নামক টীকার প্রারম্ভে এই মন্ত্রটি সামান্য পরিবর্তন করে মঙ্গলাচরণ রূপে উদ্বূৃত করে প্রকৃতির বর্ণনা করেছেন । কাব্যময়ী ভাষায় প্রকৃতিকে একটি ত্রিবর্ণবিশিষ্টা অজারূপে চিত্রিত করেছেন । এই প্রকৃতি বদ্ধজীবরূপ অজের সঙ্গে মিলিত হয়ে নিজের মতো ত্রিবর্ণবিশিষ্ট-ত্রিগুণযুক্ত সন্তান উৎপন্ন করে । ছাগীকে ‘অজা’ বলা হয় । শ্লেষের মাধ্যমে এখানে প্রকৃতির আলংকারিক বর্ণনা পরিদৃষ্ট হয় ।
সম্বন্ধ—সেই জাগতিক ভোগ উপভোগকারী পরা প্রকৃতিরূপ জীবসমুদয় কখন এবং কীভাবে মুক্ত হতে পারে—এই জিজ্ঞাসার উত্তরে পরের মন্ত্র দুটি বলছেন—