ত্রিরুন্নতং স্থাপ্য সমং শরীরং হৃদীন্দ্রিয়াণি মনসা সন্নিবেশ্য ।
ব্রহ্মোড়ুপেন প্রতরেত বিদ্বান্ স্রোতাংসি সর্বাণি ভয়াবহানি ॥ ৮॥
ব্যাখ্যা—ধ্যানযোগের সাধকের উচিত মস্তক, গলদেশ এবং বক্ষন্স্থলকে উন্নতভাবে রাখা, কোনোদিক যেন নত না হয় । শরীর ঋজু থাকবে এবং স্থির রাখতে হবে । কারণ শরীর সোজা এবং স্থির না থাকলে তথা মস্তক, গলদেশ, বক্ষন্স্থল সোজা না থাকলে নিদ্রা এবং বিক্ষেপরূপ বিঘ্ন উপস্থিত হয় । অতএব, এই সকল বিঘ্ন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপরি-উক্তরূপে উপবেশন করা প্রয়োজন । এরপর সমস্ত ইন্দ্রিয়কে বাহ্যবিষয়গুলি থেকে অপসারণ করে মন দ্বারা হৃদয়ে নিরোধ করা উচিত । এরপর ওঁকাররূপ নৌকার আশ্রয় নিয়ে অর্থাৎ ওঁকার জপ এবং তদ্বাচ্য পরব্রহ্ম পরমাত্মার ধ্যান করতঃ সমস্ত ভয়ানক প্রবাহকে অতিক্রম করা উচিত (গীতা ৬ ।১২, ১৩, ১৪) । এর তাৎপর্য এই যে, নানা যোনিতে জন্মদানকারী যত বাসনা বিদ্যমান, তাই হল জন্ম-মৃত্যুরূপ ভয় প্রদায়ক স্রোত (প্রবাহ) । এই সমস্ত বাসনা ত্যাগ করে চিরকালের জন্য অমরত্ব লাভ করা উচিত॥ ৮ ॥