কালঃ স্বভাবো নিয়তির্যদৃচ্ছা ভূতানি যোনিঃ পুরুষ ইতি চিন্ত্যা ।
সংযোগ এষাং ন ত্বাত্মভাবাদাত্মাপ্যনীশঃ সুখদুঃখহেতোঃ ॥ ২ ॥
ব্যাখ্যা—তাঁরা বলতে লাগলেন—বেদ-শাস্ত্রে অনেক কারণের বর্ণনা আছে । কোথাও কালকে কারণ বলেছেন কারণ কোনো না কোনো সময়েই বস্তুসমূহের উৎপত্তি দেখা যায় । জগতের উৎপত্তি এবং প্রলয়ও কালেরই অধীন একথা শোনা যায় । কোথাও আবার স্বভাবকে কারণ বলা হয়েছে । কেননা বীজের অনুরূপই বৃক্ষের উৎপত্তি হয়—যে বস্তুতে যে স্বাভাবিক শক্তি বিদ্যমান, তার দ্বারাই কার্য উৎপন্ন হয়, সচরাচর তা পরিলক্ষিত হয় । এতে একথা সিদ্ধ যে, বস্তুগত শক্তিরূপে যে স্বভাব বিদ্যমান, তাই কারণ । কোথাও কর্মকে কারণ বলা হয়েছে । কারণ কর্মানুসারেই জীব ভিন্ন ভিন্ন যোনিতে ভিন্ন ভিন্ন স্বভাবাদি যুক্ত হয়ে উৎপন্ন হয় । কোথাও আকস্মিক ঘটনাকে অর্থাৎ ভবিতব্যতাকে কারণ বলা হয়েছে । কোথাও পঞ্চ মহাভূতকে এবং কোথাও জীবাত্মাকে জগতের কারণ বলা হয়েছে । অতএব, আমাদের বিচার করা উচিত প্রকৃত কারণ কে ? বিচার করলে বোঝা যায়—কাল থেকে পঞ্চ-মহাভূত পর্যন্ত কথিত জড় পদার্থের মধ্যে কেউই জগতের কারণ নয় । পৃথক পৃথক তো নয়ই, সকলের মিলিত-রূপও জগতের কারণ হতে পারে না । কেননা এ সমস্ত জড় হওয়ার জন্য চেতনের অধীন । এদের স্বতন্ত্রভাবে কর্ম করার শক্তি নেই । যে সমস্ত জড় বস্তুর মিলনে কোনো নতুন বস্তু উৎপন্ন হয়, তা তার সঞ্চালক চেতন আত্মারই অধীন এবং তারই ভোগার্থে হয় । এছাড়া জীবাত্মাও জগতের কারণ হতে পারে না ; কারণ সে তো সুখ-দুঃখের হেতুভূত প্রারব্ধের অধীন, স্বতন্ত্ররূপে কিছু করতে পারে না । অতএব, কারণতত্ত্ব হল ভিন্ন ॥ ২ ॥
সম্বন্ধ—এইভাবে বিচার করে তাঁরা কী নির্ণয় করলেন তা বলছেন—