হরিঃ ওঁ ব্রহ্মবাদিনো বদন্তি—
কিং কারণং ব্রহ্ম কুতঃ স্ম জাতা জীবাম কেন ক্ব চ সম্প্রতিষ্ঠাঃ ।
অধিষ্ঠিতাঃ কেন সুখেতরেষু বর্তামহে ব্রহ্মবিদো ব্যবস্থাম্ ॥ ১ ॥
ব্যাখ্যা—পরব্রহ্ম পরমাত্মাকে জানার এবং তাঁকে পাওয়ার জন্য তাঁর সম্বন্ধে অধ্যয়নরত কতিপয় জিজ্ঞাসু পরস্পর সম্ভাষণ করছেন—‘হে বেদজ্ঞ মহর্ষিগণ ! আমরা বেদে জ্ঞাত হয়েছি যে, এই নিখিল জগতের মূল কারণ হলেন ব্রহ্ম । ওই ব্রহ্ম কে ? আমরা কার থেকে উৎপন্ন হয়েছি, আমাদের মূল কী এবং কে ? কার প্রভাবে আমরা জীবিত ? আমাদের জীবনের আধার কে ? আমাদের পূর্ণস্থিতি কার মধ্যে ? অর্থাৎ আমাদের উৎপত্তির প্রাক্কালে—ভূতকালে উৎপন্ন হওয়ার পর, বর্তমানকালে এবং পরে প্রলয়কালে আমরা কার মধ্যে অবস্থান করি ? আমাদের পরম আশ্রয় কে ? তথা আমাদের অধিষ্ঠাতা, আমাদের ব্যবস্থাপক কে ? যাঁর ব্যবস্থানুসারে আমরা সুখ-দুঃখ—দুইই ভোগ করছি । সম্পূর্ণ জগতের সুব্যবস্থাপক সুসঞ্চালক সেই পরম পুরুষ কে ?’(১) ॥ ১ ॥
(১)এইভাবে পরব্রহ্ম পরমাত্মার অনুসন্ধান করা তাঁকে জানার এবং পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাসহ উৎসাহপূর্বক পরস্পর বিচার করা, পরমাত্মতত্ত্বজ্ঞ মহাপুরুষকে ওই বিষয়ে সবিনয়, সশ্রদ্ধ প্রশ্ন করা, তাঁর উপদেশ নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রবণ করে জীবনে আচরণ করাকেই বলা হয় সৎসঙ্গ । এই উপনিষদের প্রথম মন্ত্রে সৎসঙ্গের বর্ণনা বিদ্যমান । এতে সৎসঙ্গের অনাদিত্ব এবং অলৌকিক মহত্ত্ব সূচিত হয় ।