জাগরিতস্থানো বৈশ্বানরোঽকারঃ প্রথমা মাত্রাঽঽপ্তেরাদিম-
ত্বাদ্বাঽঽপ্নোতি হ বৈ সর্বান্ কামানাদিশ্চ ভবতি
য এবং বেদ॥৯
অন্বয়: জাগরিতস্থানঃ বৈশ্বানরঃ (জাগ্রত অবস্থায় বৈশ্বানর [হিসেবে চিহ্নিত]); অকারঃ প্রথমা মাত্রা (প্রথম বর্ণ অ [কেন? কারণ]); আপ্তেঃ (ব্যাপী); আদিমত্বাৎ (এটিই প্রথম); বা (ও [বৈশ্বানর যেমন সকল জগৎ জুড়ে আছেন তেমনি প্রথম বর্ণ অকারও সবকিছু প্রকাশে সক্ষম, দুই-এর মধ্যে এটিই মিল]); যঃ (সাধক [যিনি]); এবং (এই [বৈশ্বানর]); বেদ (জানেন); হ বৈ (নিশ্চিতভাবে); সর্বান্ কামান আপ্নোতি (তিনি সমস্ত কাম্য-বস্তু পেয়েছেন); আদিঃ চ ভবতি (তিনি সর্বোত্তমও বটে)।
সরলার্থ: জাগ্রত অবস্থায় বৈশ্বানররূপী পরমাত্মা ‘অ’ এই বর্ণের দ্বারা চিহ্নিত। বৈশ্বানর এবং ‘অ’ উভয়ই সর্বব্যাপী। যিনি একথা নিশ্চিতভাবে জানেন তাঁর সকল কামনা-বাসনা পূর্ণ হয়ে গেছে। তিনি সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
ব্যাখ্যা: ‘অ’ বর্ণটি বৈশ্বানর—জাগ্রত অবস্থার জীবাত্মা। এটি আবার বিরাট তথা দৃশ্যমান জগৎও বটে। কেন? কারণ ‘অ’ হল প্রথমা অর্থাৎ শুরু। বর্ণমালার প্রথম অক্ষর হিসাবে ‘অ’কার সকল অক্ষরকে ব্যাপ্ত করে আছে। তেমনি বৈশ্বানরও সকল জগৎকে ব্যাপ্ত করে আছে। সুতরাং অতি সঙ্গতভাবেই ‘অ’কে বৈশ্বানরের প্রতীক বলা হয়েছে।
প্রতীক এবং যার প্রতীক, তারা এক ও অভিন্ন। অ এবং বৈশ্বানর যে এক ও অভিন্ন, এই জ্ঞান যিনি লাভ করেছেন তাঁর সকল কামনা-বাসনা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। অর্থাৎ তিনি আপ্তকাম। এরূপ ব্যক্তি সকলের মধ্যে অগ্রগণ্য হয়ে ওঠেন।