আদিবুদ্ধাঃ প্রকৃত্যৈব সর্বে ধর্মাঃ সুনিশ্চিতাঃ।
যস্যৈবং ভবতি ক্ষান্তি সোঽমৃতত্বায় কল্পতে॥৯২
অন্বয়: সর্বে ধর্মাঃ (সকল আত্মা); প্রকৃত্যা এব (নিজ প্রকৃতি অনুসারে); আদি-বুদ্ধাঃ (সতত জ্যোতির্ময়); সুনিশ্চিতাঃ (সতত অভিন্ন); যস্য এবং ক্ষান্তিঃ ভবতি (সাধক যখন এই তত্ত্ব নিশ্চিতভাবে জানেন এবং তৃপ্ত হন [অর্থাৎ আত্মা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার আর প্রয়োজন মনে করেন না])। সঃ অমৃতত্বায় কল্পতে (তিনি মোক্ষলাভ করেন)।
সরলার্থ: আত্মা স্বরূপত জ্যোতির্ময় এবং সতত অভিন্ন। সাধক এ তত্ত্ব আয়ত্ত করলে মোক্ষলাভ করেন।
ব্যাখ্যা: সূর্য যেমন সবসময়ই উজ্জ্বল আত্মাও তেমন সতত জ্যোতির্ময়। আমরা জানি বা না জানি আত্মা আত্মাই—স্বয়ং জ্যোতি এবং সর্বদা অভিন্ন। আমরা আত্মাকে জানার কথা বলি, কিন্তু এই জানা কোন বস্তুকে জানার মতো নয়। জ্ঞান সবসময়ই আমাদের ভেতরে রয়েছে। শুধু আমাদের যা করণীয় তা হল এই জ্ঞান এবং আমাদের মধ্যেকার আড়ালটুকু সরিয়ে দেওয়া। এ অনেকটা আয়নার উপর থেকে ধুলোর আবরণ মুছে দেওয়ার মতো, তাহলেই আয়নায় আমরা নিজেদেরকে আরও পরিষ্কার দেখতে পাব। মন যখন সব মোহ থেকে মুক্ত হয় তখন জ্ঞান আপনা-আপনিই প্রকাশ পায়। তখন আত্মার স্বরূপ সম্পর্কে আমাদের আর কোনও সংশয় থাকে না। আত্মাকে জানার সব চেষ্টা এইখানেই শেষ হয়।