অবস্ত্বনুপলম্ভং চ লোকোত্তরমিতি স্মৃতম্।
জ্ঞানং জ্ঞেয়ং চ বিজ্ঞেয়ং সদা বুদ্ধৈঃ প্রকীর্তিতম্॥৮৮
অন্বয়: অবস্তু (কোন জড়বস্তু নয়); অনুপলম্ভং চ (এবং প্রত্যক্ষ নয়); লোকোত্তরম্ (ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে [সুষুপ্তি]); ইতি স্মৃতম্ (পণ্ডিতদের দ্বারা এই আখ্যা দেওয়া হয়েছে); বুদ্ধৈঃ (যাঁরা জানেন তাদের দ্বারা); সদা জ্ঞানম্ (নিরবচ্ছিন্ন [বস্তু] উপলব্ধি); জ্ঞেয়ম্ ([উপলব্ধির] বস্তু); বিজ্ঞেয়ং চ (বিশেষ জ্ঞানের বস্তুও [অর্থাৎ তুরীয়, পরম সত্য]); প্রকীর্তিতম্ (এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে)।
সরলার্থ: যেখানে কোন জড়বস্তু নেই, বস্তু যে আছে এর বোধও নেই এবং যখন মানুষ সব ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে—সেই অবস্থাকে পণ্ডিতেরা ‘গভীর নিদ্রা’(সুষুপ্তি) আখ্যা দিয়েছেন। যাঁরা আত্মাকে জানেন তাঁরা শুধু তিনটি উপাদান স্বীকার করেন— জ্ঞান, জ্ঞেয় (জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি অবস্থা) এবং আত্মা (তুরীয়)।
ব্যাখ্যা: ‘অবস্তু’র অর্থ—জড় বস্তুর অভাব, আর ‘অনুপলম্ভ’ কথাটির অর্থ—প্রত্যক্ষ নয়। এই দুটিই গভীর নিদ্রা তথা সুষুপ্তির লক্ষণ। জাগ্রত, স্বপ্ন এবং সুষুপ্তি (গাঢ় নিদ্রা)—এই তিন অবস্থা হল জ্ঞেয় অর্থাৎ জ্ঞানের বিষয়। এই নামকরণের কারণ কি? কারণ, যত রকমের উপলব্ধি সম্ভব তা এই জ্ঞেয়র অন্তর্গত।
আরও এক ধরনের জ্ঞান আছে যা ‘বিজ্ঞেয়’ বলে খ্যাত। বিজ্ঞেয় কথাটির অর্থ বিশেষ ধরনের জ্ঞান। এই জ্ঞান বিশেষ তার কারণ এই জ্ঞানই পরম জ্ঞান অর্থাৎ আত্মজ্ঞান।