সবস্তু সোপলম্ভং চ দ্বয়ং লৌকিকমিষ্যতে।
অবস্তু সোপলম্ভং চ শুদ্ধং লৌকিকমিষ্যতে॥৮৭
অন্বয়: সবস্তু (বস্তু সহ); সোপলম্ভং চ দ্বয়ম্ (এবং তাদের [অর্থাৎ বস্তুর] উপলব্ধি, এই দুই একযোগে); লৌকিকম্ ইষ্যতে (জাগ্রত অবস্থা বলা হয়); অবস্তু (যদি কোন বস্তু না থাকে); সোপলম্ভম্ (কিন্তু [তথাপি বস্তু] দেখা যাচ্ছে); চ শুদ্ধং লৌকিকম্ ইষ্যতে (সাধারণ স্বাভাবিক অবস্থা বা স্বপ্নাবস্থা যেখানে জাগ্রতের তুলনায় সীমিত বস্তুর উপলব্ধি হয় [সুতরাং বিশুদ্ধতর])।
সরলার্থ: বস্তুর উপস্থিতি ও তার উপলব্ধি—এ দুটি ব্যবহারিক সত্যকে একযোগে বলা হয় জাগ্রত অবস্থা। কিন্তু যদি বস্তু না থাকে, তবুও বস্তু দেখা যাচ্ছে তা হল স্বপ্নাবস্থা (এও সাধারণ স্বাভাবিক অবস্থা। তবে জাগ্রতের তুলনায় সীমিত বস্তুর উপলব্ধি হয়)।
ব্যাখ্যা: প্রশ্ন উঠতে পারে : কেন অদ্বৈতবাদীদের নির্ভুল আর অন্যান্য মতবাদীদের ভ্ৰান্ত বলা হচ্ছে? অদ্বৈতবাদীরা শান্তি ও সমন্বয়ে বিশ্বাসী। শান্তি ও সমন্বয়ের একমাত্র উপায় একত্বের অনুভূতি একথাই অদ্বৈতবাদীরা প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাঁদের প্রতিপক্ষরা সবসময় বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত। তাঁরা কেবল তিক্ততা সৃষ্টি করেন।
অদ্বৈতবাদীদের মূল বক্তব্য: বস্তু ও তার উপলব্ধি ব্যবহারিক দৃষ্টিতে সত্য। এই দুয়ের একযোগে উপস্থিতি আমাদের জাগ্রত অবস্থায়। বেদান্তবাদী এই অবস্থাকে স্বীকার করেন এবং এই অবস্থার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে থাকেন। কারণ শাস্ত্র অধ্যয়ন ও আত্মজ্ঞান লাভের জন্য সাধনা জাগ্রত অবস্থাতেই সম্ভব। এই আত্মজ্ঞানলাভই জীবনের পরম লক্ষ্য।
জাগ্রত অবস্থার বিপরীত হল স্বপ্নবস্থা। এই অবস্থায় বস্তু না থাকলেও বস্তুর অনুভূতি হয়। এই অবস্থা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অদ্বৈতবাদীরা যে শুধুমাত্র স্বপ্নাবস্থাকেই মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন তা নয়, তাঁদের কাছে জাগ্রত অবস্থাও একইভাবে মিথ্যা। তবে তাঁরা স্বীকার করেন যে জাগ্রত অবস্থার ব্যবহারিক সত্যতা আছে।