ভূতং ন জায়তে কিঞ্চিদভূতং নৈব জায়তে।
বিবদন্তোঽদ্বয়া হ্যেবমজাতিং খ্যাপয়ন্তি তে॥৪
অন্বয়: ভূতম্ (যা কিছু [ইতিপূর্বেই রয়েছে]); কিঞ্চিৎ (যাই হোক না কেন); ন জায়তে (জন্মগ্রহণ করে না); অভূতং ন এব জায়তে (যে বস্তুর অস্তিত্ব নেই তার পক্ষে জন্মগ্রহণ সম্ভব নয়); [ইতি] বিবদন্তঃ (পরস্পর বিবাদরত [সাংখ্য, ন্যায় ও অন্যান্য পণ্ডিতবর্গ]); এবম্ অদ্বয়াঃ ([এর ফলে] যেন তাঁরা অদ্বৈতবাদী); অজাতিম্ (যুক্তির দিক থেকে জন্ম মিথ্যা); হি (স্বয়ং); তে (ওরা); খ্যাপয়ন্তি (সমর্থন করছে)।
সরলার্থ: সাংখ্য, ন্যায় ও অন্যান্য দ্বৈতবাদীরা পরস্পর বিবাদ-বিসংবাদে রত। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন, যা ইতিপূর্বেই আছে তার জন্মগ্রহণের প্রয়োজন নেই। অপর দল বলেন, যে বস্তুর অস্তিত্বই নেই তার পক্ষে জন্মগ্রহণ সম্ভব নয়। দ্বৈতবাদীরা এভাবে নিজেদের মধ্যে বিবাদ করতে গিয়ে প্রকারান্তরে অদ্বৈতবাদীর বক্তব্যকেই সমর্থন করেন। অদ্বৈতমতে, কোন কিছুর জন্ম হওয়া যুক্তির দিক থেকে মিথ্যা।
ব্যাখ্যা: দ্বৈতবাদীরা নিজেদের মধ্যে বাগ্যুদ্ধে পরস্পরকে খণ্ডন করতে চান। কিন্তু তা করতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের অজ্ঞাতসারে অদ্বৈত সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করেন।
সাংখ্য বলেন শুধুমাত্র অস্তিত্ববান বস্তুরই জন্ম হয়। নৈয়ায়িক বলেন—‘উদ্ভট প্রস্তাব। যার ইতিপূর্বেই অস্তিত্ব আছে তা আবার জন্মাবে কেন? তবে কি তোমরা বলতে চাও যে আত্মা, যা নিত্য আছে তাঁকে আবার জন্মাতে হবে?’ নৈয়ায়িক সিদ্ধান্ত এই যে কেবলমাত্র যার অস্তিত্ব নেই সেই বস্তুরই জন্ম হয়ে থাকে।
সাংখ্যের যুক্তি: যার অস্তিত্ব নেই তা যদি জন্মায় তাহলে তো একদিন খরগোশেরও শিং গজাবে, বন্ধ্যানারীও সন্তানের জন্ম দেবে। কিন্তু তাতো সম্ভব নয়, অসম্ভব।
এইভাবে দ্বৈতবাদীরা পরস্পরকে খণ্ডন করেন। অদ্বৈতবাদীরা দাবি করেন, জন্ম-মৃত্যু সমস্যার একমাত্র সমাধান হল অদ্বৈততত্ত্ব। অর্থাৎ জন্ম নেই, মৃত্যুও নেই, সৃষ্টি নেই, বিনাশও নেই। আছে কেবল রূপান্তর। বাইরের রূপটা বদলায়, বস্তু স্বরূপত একই থাকে। সেই অপরিবর্তিত ‘বস্তু’ই আত্মা।