উপলম্ভাৎ সমাচারাদস্তিবস্তুত্ববাদিনাম্।
জাতিস্তু দেশিতা বুদ্ধৈরজাতেস্ত্রসতাং সদা॥৪২
অন্বয়: বুদ্ধৈঃ (প্রাজ্ঞ অদ্বৈতবাদীরা); তু (ও); উপলম্ভাৎ (ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে); সমাচারাৎ (বর্ণাশ্রম অনুযায়ী আচরণ থেকে); অস্তি-বস্তুত্ববাদিনাম্ (যারা বাহ্যবস্তুর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন); সদা অজাতেঃ এসতাম্ (জন্ম নেই একথা চিন্তা করতে ভয় পান); জাতিঃ (জন্মবাদ); দেশিতা (শেখানো হয়)।
সরলার্থ: কিছু মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে ও প্রচলিত বর্ণাশ্রম অনুযায়ী কর্ম করে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে বাহ্যবস্তুর অস্তিত্ব আছে। জন্ম বলে কিছু নেই—একথা চিন্তা করতেও তাঁরা ভয় পান। এঁদের কাছে প্রাজ্ঞ অদ্বৈতবাদীরা জন্মের ব্যাপারে আপোষ করতে রাজি আছেন। কিন্তু বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে তাঁরা সম্পূর্ণ আপোষহীন।
ব্যাখ্যা: অদ্বৈতবাদীরা বাহ্যবস্তুর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। জন্ম বলে কিছু আছে এমন কথাও তাঁরা মানেন না। একথা শুনে দ্বৈতবাদীরা ভয় পেয়ে যান। তাঁদের কথা মনে রেখে অদ্বৈতবাদীরা কোন কোন ক্ষেত্রে জন্ম বা বাহ্যবস্তুর অস্তিত্বের সম্ভাবনা অনুমোদন করেছেন। যেমন, শাস্ত্রে এমন বাক্যও পাওয়া যায় ‘ব্রহ্ম সবকিছুর উৎস’। স্থূলবুদ্ধি মানুষের জন্য এ একটি আপোষমাত্র কারণ অদ্বৈততত্ত্ব ধারণা করা তাদের পক্ষে দুরূহ।
কিন্তু বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের জন্য অদ্বৈতবাদীর আপোষহীন সিদ্ধান্ত— ‘ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুরই অস্তিত্ব নেই।’ জন্ম ও মৃত্যু দুই-ই মনের সৃষ্টি।