অনাদেরন্তবত্ত্বং চ সংসারস্য ন সেৎস্যতি।
অনন্ততা চাদিমতো মোক্ষস্য ন ভবিষ্যতি॥৩০
অন্বয়: অনাদেঃ সংসারস্য (যদি জগৎ অনাদি হয়); অন্তবত্ত্বং চ ন সেৎস্যতি (তবে এর অন্তও থাকতে পারে না); আদিমতঃ (যার শুরু আছে [যেমন আত্মজ্ঞান]); মোক্ষস্য অনন্ততা ন ভবিষ্যতি (মোক্ষ অন্তহীন হতে পারে না)।
সরলার্থ: যাঁরা বলেন জগৎ অনাদি তাঁদের এও স্বীকার করে নিতে হবে জগৎ অন্তহীনও বটে। অনুরূপভাবে যেহেতু মোক্ষ আত্মজ্ঞানের ফল (আর সেই কারণে তার আদি আছে), সুতরাং মোক্ষ চিরস্থায়ী হতে পারে না।
ব্যাখ্যা: দ্বৈতবাদীদের মতে, বন্ধন এবং মুক্তি উভয়ই সত্য। অদ্বৈতবাদীরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাঁরা বলেন: ‘যদি কোন বস্তুর আরম্ভ না থাকে তার শেষও থাকবে না। জগতে এর অন্যথা হতে পারে না।’
দ্বৈতবাদীদের উত্তর : কিন্তু বন্ধনের কোন শুরু নেই কিন্তু শেষ আছে। আত্মজ্ঞান হলে মোক্ষলাভ হয়; তখন বন্ধনের অবসান হয়। কিন্তু অদ্বৈতবাদীরা বলেন : মোক্ষের আদি থাকলে অন্ত অবশ্যই থাকবে। সেক্ষেত্রে একে আদৌ মোক্ষ বলা যাবে না।
উত্তরে দ্বৈতবাদীরা বলেন : মোক্ষের কোন অস্তিত্ব নেই, এ ভাঙা ঘটের মতো। অদ্বৈতবাদীরা তখন প্রশ্ন করেন : মোক্ষের যদি অস্তিত্ব না থাকে, তবে কি তা খরগোশের শিংয়ের মতো? কিন্তু যার অস্তিত্বই নেই, অ-বস্তু, তার আবার আরম্ভ অর্থাৎ আদিই বা কি করে থাকতে পারে?
দ্বৈতবাদীরা তবু বলেন: বন্ধনের আদি না থাকলেও অন্ত আছে। এই বক্তব্যের সমর্থনে তাঁরা বীজ-গাছ-বীজের দৃষ্টান্ত দেন। বীজ থেকেই গাছ হয়, আবার গাছ থেকে বীজ। এইভাবেই চলতে থাকে। কেউ জানে না কবে এর শুরু হয়েছিল। কোন বীজ না রেখে গাছটি মরে গেলে তবেই এই ধারায় ছেদ পড়ে। কিন্তু অদ্বৈতবাদীরা উত্তরে বলবেন যে এই দৃষ্টান্ত এখানে যথাযথ নয়। কারণ প্রতিবারই যখন গাছ হয় তখন সেটি একটি নতুন গাছ এবং প্রতিবারই যখন বীজ উৎপন্ন হয় তখন সেটি একটি নতুন বীজ। সুতরাং এই ধারাকে কখনই অনাদি বলা চলে না।
সমস্যাটির একমাত্র সমাধান এই যে, বন্ধন কখনো ছিল না, কাজেই তার থেকে মুক্তির প্রশ্নই ওঠে না। একইসঙ্গে বলতে হয় মোক্ষের কোন শুরু নেই। মোক্ষ সবসময় হয়েই আছে।