তস্মান্ন জায়তে চিত্তং চিত্তদৃশ্যং ন জায়তে।
তস্য পশ্যন্তি যে জাতিং খে বৈ পশ্যন্তি তে পদম্॥২৮
অন্বয়: তস্মাৎ (সুতরাং); চিত্তং ন জায়তে (মনের জন্ম নেই); চিত্তদৃশ্যম্ (বাহ্যবস্তু); ন জায়তে (জন্মায় না); যে (যাঁরা); তস্য জাতিং পশ্যন্তি (বিশ্বাস করেন যে তাঁরা জন্মান); তে (এমন লোকেরা); বৈ (নিশ্চিতভাবে); খে পদং পশ্যন্তি (আকাশে [পাখীদের] পায়ের ছাপ দেখতে পান [অর্থাৎ যা অসম্ভব])।
সরলার্থ: (পূর্বোক্ত কারণে) মনের জন্ম নেই এবং বাহ্যবস্তুরও জন্ম নেই। যাঁরা বিশ্বাস করেন মনের জন্ম আছে, তাঁরা আকাশে পাখীদের পায়ের ছাপও দেখতে পান (অর্থাৎ যা অসম্ভব)।
ব্যাখ্যা: এক শ্রেণীর বৌদ্ধ (যথা বিজ্ঞানবাদী) বলেন যে মনের বাইরে কিছুই নেই। যা কিছু দেখতে পাওয়া যায় তা হল মনের সৃষ্টি। এই পর্যন্ত একমত হতে গৌড়পাদের কোনও অসুবিধে নেই।
কিন্তু এইসব ভাববাদীরা আরও বলেন যে, সবকিছুই শূন্য, দুঃখময় এবং মন ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এসব অভিজ্ঞতার কথা বলছেন কে? যিনি বলছেন তিনি কি করে বলতে পারেন যে জগৎ ‘শূন্য’? দুঃখ আছে একথা নিঃসন্দেহে সত্য, কিন্তু দুঃখ তো নিত্য নয়। আবার যদি বলা হয় মন ক্ষণস্থায়ী তাহলে অবশ্যই একটা নিত্যবস্তু কিছু আছে যার তুলনায় মনকে ক্ষণিকের বলা যায়। সেই নিত্যবস্তুটি কি?
এইসব ব্যক্তিরা এমনভাবে কথা বলেন যে মনে হয় তাঁরা আকাশে পাখির পায়ের ছাপ (অবাস্তব এবং অসম্ভব) দেখতে পান, আকাশটাকে যেন তাঁরা হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে রেখেছেন।