বীজাঙ্কুরাখ্যো দৃষ্টান্তঃ সদা সাধ্যসমো হি সঃ।
ন হি সাধ্যসমো হেতুঃ সিদ্ধৌ সাধ্যস্য যুজ্যতে॥২০
অন্বয়: বীজাঙ্কুরাখ্যঃ দৃষ্টান্তঃ (বীজ ও চারাগাছের দৃষ্টান্ত); সঃ হি (সেই [দৃষ্টান্ত]); সাধ্যসমঃ (একটি তত্ত্ব বা মতবাদ ছাড়া আর কিছু নয় [অর্থাৎ প্রমাণ-সাপেক্ষ]); সাধ্যসমঃ হেতুঃ (কারণ সেই তথাকথিত উপমাটি এখনও একটি মতবাদ মাত্র); সাধ্যস্য সিদ্ধৌ ন হি যুজ্যতে (প্রমাণ হিসেবে প্রযোজ্য হতে পারে না [অর্থাৎ কার্য-কারণ সম্পর্ক অনাদি—এই মতের প্রমাণ হতে পারে না])।
সরলার্থ: বীজ ও চারাগাছের দৃষ্টান্তটি এখনও মতবাদের স্তরে (অর্থাৎ প্রক্রিয়াটির অনাদিত্ব এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি)। যেহেতু দৃষ্টান্তটি এখনও প্রমাণসাপেক্ষ, সেহেতু সেটিকে অন্য মতবাদের সমর্থনে ব্যবহার করা যায় না।
ব্যাখ্যা: কার্য-কারণ প্রক্রিয়াটি অনাদি কিনা—এইটিই প্রশ্ন। কারও কারও মতে অনাদি। তাঁদের মতে কারণ কার্যে এবং কার্য কারণে পরিণত হয়। আর এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর কোনও শুরু নেই।
কার্য কারণে পরিণত হতে পারে—এই ধারণাকে বেদান্তবাদীরা বিদ্রূপ করে প্রশ্ন করেন : এর অর্থ কি এই যে পিতা নিজ পুত্রের পুত্র হতে পারেন? অথবা খরগোশের দুটি শিংয়ের মতো কার্য ও কারণ অসংলগ্নভাবে একই সময়ে উৎপন্ন হয়?
দ্বৈতবাদীরা উত্তরে বলেন: ‘কারণ যে কার্যে পরিণত হয় তাতো দেখাই যায়! এই প্রক্রিয়া অনাদি।’ বেদান্তবাদীরা এই প্রসঙ্গে একমত নন। তাঁরা বলেন : যখন বীজ থেকে চারাগাছ জন্মাচ্ছে, তখনি সেই নতুন চারাগাছের সূচনা হল বলতে হবে। অনুরূপভাবে যখন বীজের উৎপত্তি হয় তখন সেটিই বীজের সূচনা। অর্থাৎ প্রতিবারই যখন একটি বীজ উৎপন্ন হয় তখন সেটি একটি নতুন বীজ। চারাগাছ সম্পর্কেও একই কথা প্রয়োজন। সুতরাং কার্য ও কারণ উভয়েরই আদি আছে।
দ্বৈতবাদীরা বলতে পারেন: ভালো কথা। ধরা যাক, কার্য ও কারণ উভয়েরই আদি আছে। কিন্তু কারণের কার্য উৎপাদন প্রক্রিয়াটি যে অনাদি তা কিভাবে অস্বীকার করা যায়? এই প্রক্রিয়া অবশ্যই চিরন্তন।
বেদান্তবাদীদের উত্তর—একথা বলে তুমি আবার একটা নতুন তত্ত্ব সৃষ্টি করছ—কারণ থেকে কার্য। বস্তুত তুমি বিষয়টি আরও জটিল করে তুলছ। একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তুমি অন্য আর একটি মতবাদের অবতারণা করছ— যে মতবাদের নিজেরই কোন দৃঢ় ভিত্তি নেই।