কারণং যস্য বৈ কাৰ্য্যং কারণং তস্য জায়তে।
জায়মানং কথমজং ভিন্নং নিত্যং কথং চ তৎ॥১১
অন্বয়: যস্য (যার মতে); কারণং বৈ কাৰ্য্যম্ (কারণ কাৰ্যে পরিণত হয়); তস্য (তার মতে); কারণং জায়তে (কারণ জন্ম নেয়); জায়মানম্ (যদি তা জন্মায়); কথম্ অজম্ (কি করে অজাত হতে পারে); কথম্ (কেমন করে); তৎ (সেই কারণ); ভিন্নম্ (খণ্ডিত হয় [অন্য কিছুতে রূপান্তরিত হয়]); নিত্যম্ (অপরিবর্তিত থাকতে সক্ষম?)।
সরলার্থ: কারও (সাংখ্য) মতে কারণই কাৰ্য। তাঁরা আরও বলেন কারণের জন্ম হয়। তাই যদি হয় তাহলে কি করে কারণকে জন্মরহিত বলা যাবে? আর কারণ যদি কার্যে পরিণত হয় তবে তাঁকে কিভাবে অপরিবর্তনীয়ই বা বলা যায়?
ব্যাখ্যা: সাংখ্য মতে কারণ কার্যে পরিণত হয়। মাটির ঘটের কথাই ধরা যাক। ঘটের উপাদান-কারণ মাটি। মাটিই যেন ঘট হয়েছে।
সাংখ্য দর্শনের মতে জগতের প্রথম উপাদান-কারণ প্রধান [বা প্রকৃতি]। প্রধান মহতে এবং মহৎ অহং-কারে (অহং বোধ) পরিণত হয়। প্রতি ক্ষেত্রেই কারণ কার্যে পরিণত হয়। এইভাবেই সমগ্র জগতের আবির্ভাব। সাংখ্যেরা দাবি করেন প্রধান জন্মরহিত (অজ) এবং অপরিবর্তনীয় (নিত্য)।
অদ্বৈতবাদীরা সাংখ্যের এই দাবি মানেন না। তাঁরা প্রশ্ন করেন ‘যদি বল প্রধান মহতে পরিণত হয় তবে তো জন্ম প্রক্রিয়াই বোঝাচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রধানের জন্ম নেই কিভাবে বলবে? নিশ্চয়ই যার জন্ম নেই সে আর একটি বস্তুতে পরিণত হতে পারে না। এ তো স্ববিরোধী কথা।’
সাংখ্য আরও বলছেন প্রধানের কোন পরিবর্তনও নেই, প্রধান নিত্য। তাই যদি হয় তাহলে প্রধান মহতে পরিণত হয় কি করে? এখানেও সাংখ্য নিজের যুক্তির কাছেই নিজে পরাজিত হচ্ছে।