নিগৃহীতস্য মনসো নির্বিকল্পস্য ধীমতঃ।
প্রচারঃ স তু বিজ্ঞেয়ঃ সুষুপ্তেঽন্যো ন তৎসমঃ॥৩৪
অন্বয়: নিগৃহীতস্য (মন আত্মাতে স্থির); নির্বিকল্পস্য (একমুখী); ধীমতঃ (বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের); মনসঃ (মনের); প্রচারঃ (আচরণ); সঃ (সেই [আচরণ]); তু (নিশ্চিতভাবে); বিজ্ঞেয়ঃ (যত্নসহকারে পাঠ করা উচিত [যোগী ও সাধকদের দ্বারা]); সুষুপ্তে (গভীর নিদ্রামগ্ন [মানুষরা]); অন্যঃ (এক নয় [কারণ তাদের মন অবিদ্যা ও তার নানা কার্যের দ্বারা আবৃত]); ন তৎ সমঃ (ব্রহ্মে অটল যাঁদের মন, তাঁদের মতো নয়)।
সরলার্থ: যাঁর মন ব্রহ্মে স্থির, একমুখী এবং সবসময় নিত্য-অনিত্য বিচার করছে তাঁর আচরণ যোগীদের লক্ষ্য করা উচিত। গভীর নিদ্রামগ্ন ব্যক্তির আচরণ এরকম নয়। তার আচরণ আলাদা কারণ তার মধ্যে এখনও অজ্ঞানতা রয়েছে। সে এই জগতের প্রতি আসক্ত। তার ব্যবহার ব্রহ্মনিষ্ঠ ব্যক্তির মতো হতে পারে না।
ব্যাখ্যা: যখন মানুষ আত্মাকে উপলব্ধি করে তখন তার মন সম্পূর্ণভাবে স্থির হয়ে যায়। আগুন যেমন ইন্ধন ফুরিয়ে গেলে নিভে যায় এও ঠিক তেমনি। এমন ব্যক্তি দুই দেখার ক্ষমতা হারিয়েছেন। তাঁর মন আত্মায় স্থির এবং তাঁর কাছে আত্মা ছাড়া আর কিছুই নেই। তাঁর মনের অবস্থা যোগীদের পর্যবেক্ষণের বিষয়।
এহেন ব্রহ্মনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে গভীর নিদ্রামগ্ন মানুষের পার্থক্য কোথায়? উভয় ক্ষেত্রেই মনটা স্থির হয়ে আছে। কিন্তু কোন তফাত আছে কি? হ্যাঁ আছে— আকাশ-পাতাল তফাত। প্রথমজন আত্মাকে উপলব্ধি করেছেন। তিনি সর্বত্র এবং সর্বভূতে নিজেকে দেখেন। তিনি নিজেকে সকলের অন্তরাত্মারূপে জানেন। তাঁর কাছে দুই নেই, এক। তিনি সব কামনা-বাসনা মুক্ত—ইন্ধনহীন আগুনের মতো। তিনি আত্মতৃপ্ত।
অন্যদিকে গভীর নিদ্রামগ্ন ব্যক্তির মনের স্থিরতা সাময়িক। সকল দুঃখের মূল যে অবিদ্যা তা এই ব্যক্তির মধ্যে তখনও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই তার মনে অবিদ্যার খেলা শুরু হয়ে যায় এবং নিজেকে সে ইন্দ্রিয়ের অধীন বলে দেখতে পারে।