স এষ নেতি নেতীতি ব্যাখ্যাতং নিহ্ণুতে যতঃ।
সর্বমগ্রাহ্যভাবেন হেতুনাঽজং প্রকাশতে॥২৬
অন্বয়: যতঃ (যেহেতু); সঃ এষঃ নেতি নেতি (ঐ [আত্মা] এই নয়, এই নয়); ইতি অগ্রাহ্যভাবেন (এইটি [শাস্ত্রবাক্যটি] বোঝা কঠিন); হেতুনা ব্যাখ্যাতং সর্বম্ (যা কিছু কারণ হিসেবে আগে বলা হয়েছে [তা হল দ্বিতত্ত্ব এবং সেইজন্য]); নিহ্ণুতে (বাতিল করা হল); অজং প্রকাশতে (এইভাবে যা থাকল তা জন্মরহিত আত্মা)।
সরলার্থ: ‘আত্মা এই নয় এই নয়’—এই শাস্ত্রবাক্যটি বোঝা কঠিন। সেইজন্য এতক্ষণ যা কিছু কারণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে—তা আসলে দ্বিতত্ত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন এই দ্বৈতবাদ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। যা থাকল—তা জন্মরহিত আত্মা।
ব্যাখ্যা: আমাদের ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতাকে পাছে আমরা আত্মা বলে মনে করি তাই শাস্ত্র আমাদের বারবার এই বলে সতর্ক করছেন—‘এটি নয়, এটি নয়।’ অর্থাৎ আত্মা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু নয়।
তবুও আত্মাকে জানার জন্য আমরা নানা পথ ও উপায় অবলম্বন করে থাকি। আত্মাতে আমরা নানা উপাধিও আরোপ করি। এ সবই নিরর্থক। শাস্ত্র বারবার বলে-‘এটি নয়, এটি নয়।’ কারণ যখন আমরা সব উপাধি, সব মতবাদ, এককথায় আর সবকিছু প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম হব—কেবল তখনি আত্মা নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ করবেন। মনে রাখতে হবে আত্মা অনন্য। একমাত্র আত্মাই সত্য এবং স্বয়ংপ্রকাশ। আত্মাতেই আর সবকিছু রয়েছে। সেইজন্য সব মত ও সব পথ শেষ পর্যন্ত আত্মাতেই লয় হয়ে যাবে। এগুলির কোন স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নেই—একমাত্র আত্মাই আছেন।