স্বভাবেনামৃতো যস্য ভাবো গচ্ছতি মর্ত্যতাম্।
কৃতকেনামৃতস্তস্য কথং স্থাস্যতি নিশ্চলঃ॥২২
অন্বয়: যস্য (যিনি মনে করেন); স্বভাবেন অমৃতঃ ভাবঃ (যে বস্তু স্বভাবতই মৃত্যুহীন [তাও তার স্বভাবের পরিবর্তন করতে পারে (এবং)]); মর্ত্যতাং গচ্ছতি (মরণশীল হতে পারে [তাঁর কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা]); তস্য কৃতকেন (তাঁর নিজের চেষ্টায় অর্জিত); অমৃতঃ (মোক্ষ); কথং স্থাস্যতি নিশ্চলঃ (কিভাবে চিরস্থায়ী হবে)?
সরলার্থ: যদি কেউ বলেন কোন বস্তু স্বভাবত অবিনাশী হয়েও নিজ স্বভাব পরিবর্তন করতে পারে অর্থাৎ বিনাশশীল হতে পারে (তবে আমরা তাঁকে প্রশ্ন করব)—তাহলে কঠোর সাধনায় তুমি যে মোক্ষলাভ করেছ তাও বদলাতে পারে? অর্থাৎ তোমার মোক্ষ চিরস্থায়ী নয়?
ব্যাখ্যা: কিছু মানুষ বিতর্ক শুরু করতে পারেন যে তথাকথিত ‘মরণরহিত’ বস্তুরও জন্ম হয় অর্থাৎ আত্মার জন্ম হয়। সেইক্ষেত্রে ‘মরণরহিত’ এই বিশেষণটির ব্যবহার তাঁদের পক্ষে কতটা যুক্তিযুক্ত? তাঁরা হয়তো উত্তরে বলবেন: ‘জন্মাবার আগে আত্মাতে এই বিশেষণটি প্রযোজ্য। যখন আত্মার জন্ম হয়নি তখন তিনি মরণরহিত ছিলেন।’ কিন্তু আদপেই যদি আত্মার জন্ম হয় তাহলে তিনি কিভাবে মৃত্যুহীন হবেন? জন্ম হলে তাঁর পরিবর্তনও হবে অর্থাৎ জন্ম-মৃত্যুর অধীন হবেন। তাহলে আবার মরণরহিত হন কি করে? ‘অজ’ (যার জন্ম হয়নি) শব্দটি আত্মার প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। যদি বলা হয় আত্মার জন্ম হয়েছে—তবে ‘অজ’ শব্দটি সকল তাৎপর্য হারায়। সবকিছুই তখন বিনাশশীল হয়ে ওঠে, কারণ যা জন্মায়, তার মৃত্যুও অবধারিত।
আত্মার যদি জন্ম-মৃত্যু থাকে, তবে মোক্ষ বলে আর কিছু থাকতে পারে না। মোক্ষ এমন একটি অবস্থা যখন মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত বলে বোধ করে। এই বোধ তখনি আসে যখন সাধক আত্মার সঙ্গে এক হয়ে যান। কিন্তু আত্মা যদি নিজেই মুক্ত না হন, নিজেই যদি জন্ম-মৃত্যুর অধীন হন, তবে সাধক কিভাবে নিজেকে জন্ম-মৃত্যুরহিত মনে করতে পারেন?