মায়য়া ভিদ্যতে হ্যেতন্নান্যথাঽজং কথঞ্চন।
তত্ত্বতো ভিদ্যমানে হি মর্ত্যতামমৃতং ব্রজেৎ॥১৯
অন্বয়: এতৎ (এই); অজম্ (যার জন্ম নেই [এবং মৃত্যুও নেই অর্থাৎ ব্রহ্ম]); হি (নিশ্চিতভাবে); মায়য়া (মায়ার দ্বারা); ভিদ্যতে (বহু বলে প্রতিভাত); অন্যথা ন (অন্য কোন উপায়ে নয়); কথঞ্চন (কোন না কোন ভাবে); হি (কারণ); তত্ত্বতঃ (স্বরূপত); ভিদ্যমানে (যদি এটি পরিবর্তিত হয়); অমৃতম্ (অবিনাশী [ব্রহ্ম]); মর্ত্যতাম্ (মরণশীল); ব্রজেৎ (হয়ে যাবে)।
সরলার্থ: ব্রহ্মের জন্মও নেই, মৃত্যুও নেই। নিজ মায়াশক্তির দ্বারা ইনি বহু রূপে প্রতিভাত হন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মের কোন পরিবর্তন হয় না। সত্যিই যদি ব্রহ্ম পরিবর্তিত হতেন তাহলে অবিনাশী হতেন না, মরণশীল হতেন।
ব্যাখ্যা: আগে বলা হয়েছে অদ্বৈত হল কারণ, দ্বৈত তার কার্য। এর অর্থ কি এই দাঁড়ায় যে অদ্বয় ব্রহ্ম এই দৃশ্যমান দ্বৈতজগতে পরিবর্তিত হয়েছেন? না, ব্রহ্ম সদা অবিকৃত। ব্রহ্ম নিত্য। পরিবর্তন হলে ব্রহ্ম অবিনাশী হতেন না। তাহলে এই দ্বৈতজগৎ কোথা থেকে এল? এই জগৎ প্রতিভাস মাত্র—চোখের অসুখে অনেক সময় আমরা যেমন দুটো দুটো দেখি, এও ঠিক তেমনি। আমরা দুই দেখছি, আসলে আছেন কেবল এক ও অদ্বয় ব্রহ্ম। দুই দেখা রজ্জুতে সর্পভ্ৰমতুল্য। ব্রহ্মই অধিষ্ঠান, নাম-রূপের এই দৃশ্যজগৎ ব্রহ্মের উপর আরোপিত মাত্র।
ব্রহ্ম নিত্য, অখণ্ড, অমৃত, নিরাকার, অপরিবর্তিত ও অপরিবর্তনীয়। ব্রহ্ম শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ। ইনি আকাশের মতো—সর্বত্র এবং সর্বভূতে বিরাজমান। যেহেতু রূপ নেই, অতএব তাঁর রূপান্তরের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আগুন কি তার উত্তাপ হারিয়ে শীতল হয়ে যেতে পারে? পরমাত্মা স্বরূপত নিরাকার এবং চিরকাল নিরাকারই থাকবেন। ব্রহ্ম নরম মাটির তাল নন যে তাঁকে নানা রূপ দেওয়া যাবে।