অদ্বৈতং পরমার্থো হি দ্বৈতং তদ্ভেদ উচ্যতে।
তেষামুভয়থা দ্বৈতং তেনায়ং ন বিরুধ্যতে॥১৮
অন্বয়: হি (যেহেতু); অদ্বৈতম্ (অদ্বৈত); পরমার্থঃ (পরম সত্য); দ্বৈতম্ (দ্বৈত); তদ্ভেদঃ (কার্যমাত্র [অদ্বৈতের উদ্দেশে এক পদক্ষেপ মাত্র]); উচ্যতে (একটি নাম মাত্র); তেষাম্ (দ্বৈতবাদীদের পক্ষে); উভয়থা (নিত্য এবং আপেক্ষিক উভয়ই); দ্বৈতম্ (দ্বিতত্ত্বই একমাত্র সত্য); তেন (অতএব); অয়ং ন বিরুধ্যতে (এটি অদ্বৈতবাদের বিরুদ্ধতা করে না)।
সরলার্থ: যেহেতু অদ্বৈতই চূড়ান্ত তত্ত্ব, দ্বৈতের বহু দেখা কেবল অদ্বৈতেরই ভেদ, সুতরাং তার কার্যমাত্র। দ্বিতত্ত্বের অস্তিত্ব শুধুমাত্র নামে। কিন্তু দ্বৈতবাদীরা মনে করেন যে দ্বিতত্ত্ব একযোগে নিত্যও বটে আবার আপেক্ষিকও বটে। দ্বিতত্ত্ব যেহেতু অদ্বৈততত্ত্বের উপর নির্ভরশীল, তাই দ্বিতত্ত্ব কখনো অদ্বৈততত্ত্বকে খণ্ডন করতে পারে না।
ব্যাখ্যা: দ্বৈতবাদ ও অদ্বৈতবাদের মধ্যে যে কোনও মৌলিক বিরোধ নেই—এই শ্লোকে তা পরিষ্কার করে দেখানো হয়েছে। দ্বিতত্ত্বের কোন স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। এটি অদ্বৈতেরই আর এক নাম। দ্বিতত্ত্ব হল কার্য, অদ্বৈততত্ত্ব কারণ। কারণ ছাড়া কি কার্য হতে পারে? কারণই কার্যে পরিণত হয়ে থাকে। একই বহু হয়ে আছেন—এই বহুত্ব শুধু নামে আর রূপে। শাস্ত্রে একেই বলে মায়া—এক পরমাত্মার উপর বহু আরোপিত মাত্র।
‘বহু’ বলে যে কিছু নেই তা প্রমাণিত হয় সুষুপ্তিতে ও মানুষ অজ্ঞান হয়ে গেলে। সেই অবস্থায় মানুষের কোন দুই বোধ থাকে না। দ্বৈত মনের রচনা এবং সুষুপ্তি অবস্থায় মন যেহেতু সক্রিয় থাকে না, তাই সুষুপ্তিকালে মানুষের দুই বোধও থাকে না।
দ্বৈতবাদীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় প্রবৃত্ত হওয়াকে অদ্বৈতবাদী আবশ্যক জ্ঞান করেন না। অদ্বৈতবাদী যেন হাতি চড়ে চলেছেন। নীচে মাটিতে দাঁড়িয়ে কোন ব্যক্তি যদি তাঁকে দ্বন্দ্বে আহ্বান করে বলেন তিনিও হাতি চড়ে চলেছেন তাহলে প্রথম ব্যক্তি দ্বিতীয় জনের এই আহ্বানে কর্ণপাত করবেন কি? করবেন না। তিনি হেসে শান্তভাবে নিজের পথে চলে যাবেন।