দ্বয়োর্দ্বয়োর্মধুজ্ঞানে পরং ব্রহ্ম প্রকাশিতম্।
পৃথিব্যামুদরে চৈব যথাঽঽকাশঃ প্রকাশিতঃ॥১২
অন্বয়: যথা (যেমন); পৃথিব্যাম্ (পৃথিবীতে, এই বাহ্যজগতে); উদরে চ ([মানুষের] উদরের ভিতরেও); আকাশঃ (আকাশ); প্রকাশিতঃ (প্রকাশিত); মধুজ্ঞানে ([বৃহদারণ্যক উপনিষদের অন্তর্গত] মধু ব্রাহ্মণে); দ্বয়োঃ দ্বয়োঃ পরং ব্রহ্ম প্রকাশিতম্ (সব যুগল বস্তুতে [যেমন ভিতরে ও বাইরে] ব্ৰহ্ম প্রকাশিত)।
সরলার্থ: একই আকাশ মানুষের দেহের অভ্যন্তরেও আছে, আবার পৃথিবীর অভ্যন্তরেও আছে। সেইরকম ব্রহ্মও সর্বত্র এবং সকল যুগল বস্তুর ভিতরে ও বাইরে আছেন। বৃহদারণ্যক উপনিষদের মধু ব্রাহ্মণে জীবাত্মা ও পরমাত্মার একত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা: আকাশের মতো পরমাত্মাও সবকিছুর ভিতরে ও বাইরে সর্বত্র বিদ্যমান—মানুষের দেহের অভ্যন্তরেও যেমন আবার বাইরের জগতেও তেমনি। দুই বোধ মুছে গেলে তখন সর্বত্র এক দেখা যায়। তখন ছোট-বড়, ভিতর-বাহির, ব্যষ্টি-সমষ্টি—সব যুগল বস্তুতে সেই একই আত্মা।
এই প্রসঙ্গে বৃহদারণ্যক উপনিষদের মধু ব্রাহ্মণ অধ্যায়ের উল্লেখ করা হয়েছে। ‘মধু’ শব্দটির অর্থ—‘আনন্দ’। জীবাত্মা ও পরমাত্মার একত্ব এই অধ্যায়ের প্রতিপাদ্য বিষয় বলে অধ্যায়ের নামকরণ হয়েছে ‘মধু’। কারণ এই একত্বের উপলব্ধি হলে মানুষ পরমানন্দ অনুভব করে।