স্বপ্নবৃত্তাবপি ত্বন্তশ্চেতসা কল্পিতং ত্বসৎ।
বহিশ্চেতোগৃহীতং সদ্দৃষ্টং বৈতথ্যমেতয়োঃ॥৯
অন্বয়: স্বপ্নবৃত্তৌ অপি তু (স্বপ্নাবস্থাতেও); অন্তঃ (ভেতরে); চেতসা (মনের দ্বারা); কল্পিতম্ (কল্পিত); তু (অবশ্যই); অসৎ (মিথ্যা); বহিঃ (বাইরে [স্বপ্নাবস্থায়]); চেতোগৃহীতম্ (মনে অনুভূত); সৎ (সত্য); এতয়োঃ (এই দুই-ই); বৈতথ্যম্ (মিথ্যারূপে); দৃষ্টম্ (দৃষ্ট হয়)।
সরলার্থ: স্বপ্নাবস্থায় আমরা যেসব জিনিস দেখি তা মনের সৃষ্টি। সে সবই মিথ্যা। আমরা মনে করি জাগ্রত অবস্থায় আমরা যা দেখি তা সত্য। আমরা এই দুই অবস্থার অভিজ্ঞতার মধ্যে যে ভেদ কল্পনা করি তাও ভুল। স্বপ্ন ব্যাপারটিই মিথ্যা হওয়ার দরুন এর মাধ্যমে আমাদের যা কিছু অভিজ্ঞতা হয়, সেগুলিকে সত্য বা মিথ্যা যা বলেই মনে করি না কেন আসলে তা সবই মিথ্যা।
ব্যাখ্যা: জাগ্রত অবস্থায় বহির্জগতে আমরা বহু বস্তু দেখি এবং সেগুলিকে আমরা সত্য বলে মনে করি। আবার আমরা মনে মনে নানা চিন্তা নানা কল্পনা করে থাকি কিন্তু সেগুলিকে আমরা সত্য বলে মনে করি না। গৌড়পাদ এখানে বলছেন আমাদের স্বপ্নের অভিজ্ঞতা আমাদের জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতার মতোই। যখন আমরা স্বপ্ন দেখি তখন আমরা বাইরের জগতেরও অনেক বস্তুকে দেখে থাকি। যেমন আমরা স্বপ্নে দেখি যে আমরা কারও সাথে কথা বলছি অথবা স্বপ্নে পর্বত, নদী, হাতি ইত্যাদি নানা জিনিস দেখে থাকি। আবার আমরা এমন স্বপ্নও দেখি যে আমরা কিছু চিন্তা করছি এবং একথাও জানি এসব স্বপ্ন সত্য নয়। যখন জেগে উঠি তখন বুঝি স্বপ্নের সমস্তটাই মিথ্যা। গৌড়পাদ বলছেন যে, আমরা বস্তুকে বাইরে বা ভেতরে যেভাবেই দেখি না কেন দুই শ্রেণীর অভিজ্ঞতাই মিথ্যা। স্বপ্ন মিথ্যা হলে সেই স্বপ্নে যা কিছু দেখি, অনুভব করি বা কল্পনা করি—সে সবই মিথ্যা।