তত্ত্বমাধ্যাত্মিকং দৃষ্ট্বা তত্ত্বং দৃষ্ট্বা তু বাহ্যতঃ।
তত্ত্বীভূতস্তদারামস্তত্ত্বাদপ্রচ্যুতো ভবেৎ॥৩৮
অন্বয়: আধ্যাত্মিকম্ (দেহ সংক্রান্ত [জীবাত্মা]); তত্ত্বম্ (আত্মা [ব্রহ্ম]); দৃষ্ট্বা (উপলব্ধি করে); তু (এবং); বাহ্যতঃ (দেহের বাইরে); তত্ত্বম্ (আত্মা [ব্রহ্ম]); দৃষ্ট্বা (দেখে); তত্ত্বীভূতঃ (ব্রহ্মে পরিণত হন); তদারামঃ (ব্রহ্মে [আত্মায়] নিষ্ঠ); তত্ত্বাৎ (নিজের স্বরূপজ্ঞান থেকে); অপ্রচ্যুতঃ ভবেৎ (কখনো বিচ্যুত হন না)।
সরলার্থ: আত্মা (ব্রহ্ম) দেহ এবং সেই সংক্রান্ত সবকিছুর আশ্রয়—একথা বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপলব্ধি করেন। তাঁরা আরও উপলব্ধি করেন এই জগৎ আত্মায় প্রতিষ্ঠিত। একথা জেনে তাঁরা আত্মার প্রতি আকৃষ্ট হন। আত্মাকে ধ্যান করতে শুরু করেন এবং কালে তাঁর সাথে এক হয়ে যান। এইভাবে আত্মায় পরিণত হয়ে তিনি আর এই অবস্থা থেকে বিচ্যুত হন না।
ব্যাখ্যা: এই জগৎ এবং মানুষের দেহ দুই-ই মিথ্যা। সাপ যেমন রজ্জুর উপর আরোপিত ঠিক তেমনি এ জগৎও আত্মার উপর ন্যস্ত। আত্মাই একমাত্র সত্য।
এই আত্মা কিরকম? আত্মা আকাশের মতো। আত্মা সর্বত্র রয়েছেন। এবং তিনিই সবকিছু হয়েছেন। আত্মার আদি নেই, অন্তও নেই। আত্মা নির্গুণ ও নিরাকার। কোনও বিশেষণে তাঁকে বিশেষিত করা যায় না। তিনি সর্বব্যাপী। এ জগতে আত্মাই একমাত্র সত্য। এবং সাধকই সেই সত্য। তাঁর আত্মাই সকলের অন্তরস্থ আত্মা।
আত্মজ্ঞান লাভ করলে সাধক সবসময় আত্মচিন্তাতেই ডুবে থাকেন। অন্য কোনও চিন্তা তাঁর ভালো লাগে না। তিনি যেন আত্মাতে নোঙর ফেলেছেন। তাই তিনি অচল, অটল।