নিস্তুতির্নির্নমস্কারো নিঃস্বধাকার এব চ।
চলাচলনিকেতশ্চ যতির্যাদৃচ্ছিকো ভবেৎ॥৩৭
অন্বয়: যতিঃ (ঋষি); নিস্তুতিঃ (কাউকে তোষামোদ করেন না); নির্নমস্কারঃ (কারও কাছে নত হন না); নিঃস্বধাকারঃ (পিতৃপুরুষদের সম্মানে তর্পণ প্রভৃতি প্রচলিত অনুষ্ঠান করেন না); চলাচলনিকেতশ্চ (বিনাশী দেহ এবং অবিনাশী আত্মাকে বয়ে নিয়ে যান); যাদৃচ্ছিকঃ ভবেৎ (যা পান তাতেই তিনি খুশি)।
সরলার্থ: যখন কোন ব্যক্তি জানেন তিনি আত্মা ছাড়া আর কিছু নন, তখন তিনি কাউকে তোষামোদ করেন না। এমনকি সাধারণ শিষ্টাচার দেখাবারও প্রয়োজন মনে করেন না। পিতৃপুরুষের সম্মানে তর্পণাদি অনুষ্ঠানও তিনি করেন না। তিনি জানেন যে, এ দেহের নাশ হবেই কিন্তু আত্মা অবিনাশী। এই জ্ঞানে অবিচল থেকে সন্তোষের সাথেই তিনি জীবন কাটান।
ব্যাখ্যা: ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ (যিনি আত্মজ্ঞান লাভ করেছেন) কিরকম আচরণ করেন? প্রথমত এবং প্রধানত এমন মানুষ অবশ্যই সংসার-ত্যাগী সন্ন্যাসী, যিনি এ জগৎকে ত্যাগ করেছেন। তাঁর জীবন পরিপূর্ণ বৈরাগ্যের জীবন। তিনি সংসারে আছেন বটে কিন্তু তিনি সংসারী নন। তখন তাঁর বোধে বোধ হয়——তিনিই স্বয়ং পরমাত্মা। আর এই বোধ তাঁর সকল চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। তাঁকে দেখলে মনে হয়, তিনি হয় উন্মাদ, নাহয় শিশু। তাঁর দেহ আছে, কিন্তু দেহবোধ নেই। আকস্মিকভাবে যা পান, তাই তিনি খান। কারও প্রতি তাঁর কোনও কর্তব্য নেই। আবার নিজে কোনও নির্দিষ্ট সমাজের অন্তর্ভুক্ত, এমন কথাও তিনি মনে করেন না। সাধারণ নিয়ম তাঁর বেলাতে খাটে না। তিনি নিজের নিয়মে নিজে চলেন। তিনি স্বাধীন। কারও কাছ থেকে তিনি কিছু পাবার আশা করেন না। আবার অন্যকে তোষামোদও তিনি করেন না।