তস্মাদেবং বিদিত্বৈনমদ্বৈতে যোজয়েৎ স্মৃতিম্।
অদ্বৈতং সমনুপ্রাপ্য জড়বল্লোকমাচরেৎ॥৩৬
অন্বয়: তস্মাৎ (সুতরাং); এবম্ (যেমন উল্লেখ করা হয়েছে); এনম্ (এই আত্মাকে); বিদিত্বা (উপলব্ধি করে); অদ্বৈতে (অদ্বৈতে); স্মৃতিম্ (মন); যোজয়েৎ (স্থির করতে হবে); অদ্বৈতম্ (অদ্বৈততত্ত্ব); সমনুপ্রাপ্য (প্রথমে শাস্ত্র পাঠ করে এবং পরে তা উপলব্ধি করে); জড়বৎ (জড়বুদ্ধির মতো); লোকম্ (লোকদের মাঝে); আচরেৎ (আচরণ কর)।
সরলার্থ: অদ্বৈতজ্ঞান ভালোভাবে আয়ত্ত করা বড়ই কঠিন। আমাদের যা করণীয় তা আগেই বলা হয়েছে। তা হল: এই তত্ত্বের একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা চাই। তারপর মনকে সেই ধারণায় সবসময় যুক্ত রাখতে হবে। শাস্ত্রে অদ্বৈততত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সাধককে এই তত্ত্বের সারকথা উপলব্ধি করতে হবে। সাধক সবসময় অদ্বৈততত্ত্বের মনন ও ধ্যানে যুক্ত থেকে পরিণামে আত্মাকে উপলব্ধি করবেন। সাধক কাউকে বুঝতে দেবেন না যে, তিনি আত্মজ্ঞান লাভ করেছেন। বরং তিনি জড়বুদ্ধির মতো আচরণ করবেন।
ব্যাখ্যা: শাস্ত্র বলেন, যখন কারও একত্বের বোধ হয় অর্থাৎ সবকিছুর মধ্যে সেই এক আত্মাকে দেখেন তখন এ জগতের সবকিছুকেই তিনি ভালো বলে মনে করেন। তাঁর কাছে জীবনটা বড় আনন্দের হয়ে ওঠে। কিন্তু সবথেকে বড় কথা হল তিনি অভয়পদ লাভ করেন। সাধক তখন মনে করেন তিনিই পরমব্রহ্ম, এ জগতের সবকিছুর উৎসও তিনি। কোন কিছুর দ্বারাই তিনি আর প্রভাবিত হন না। সর্বত্র এবং সবকিছুর মধ্যে তখন ‘তিনি’ই বিরাজ করেন। এই নিখিল জগতের সাথে তিনি তখন এক হয়ে যান।
কিন্তু ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ তাঁর জ্ঞানের প্রচার করেন না। তাঁর আচরণ দেখে মনে হয় তিনি কিছুই জানেন না। ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ যেন বিনয়ের প্রতিমূর্তি।