ভাবৈরসদ্ভিরেবায়মদ্বয়েন চ কল্পিতঃ।
ভাবা অপ্যদ্বয়েনৈব তস্মাদদ্বয়তা শিবা॥৩৩
অন্বয়: অয়ম্ (এই আত্মা); এব (অবশ্যই); অসদ্ভিঃ ভাবৈঃ (অনিত্য বস্তুর মতো); অদ্বয়েন চ (অদ্বয়রূপে); কল্পিতঃ (অজ্ঞান ব্যক্তি মনে করেন); ভাবাঃ অপি (অনিত্য বস্তুও); অদ্বয়েন (অদ্বয়রূপে); তস্মাৎ (এইজন্য); অদ্বয়তা (অদ্বৈততত্ত্ব); শিবা (কল্যাণকর)।
সরলার্থ: আত্মা চৈতন্যস্বরূপ। আত্মাই পরম সত্য। কিন্তু অজ্ঞান ব্যক্তি তাঁর প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারেন না। তিনি মনে করেন যে, এ জগতের অন্যান্য বস্তুর মতো আত্মাও একটি বস্তুমাত্র। সমগ্র জগৎ আত্মার উপর আরোপিত। এইভাবেই জগৎ আত্মার চরিত্র অর্থাৎ বৈশিষ্ট্যগুলি লাভ করে। এই কারণের জন্যই আত্মাকে তিনি বস্তু বলে ভুল করেন। আত্মা সত্য, তাই জগৎকেও সত্য বলে মনে হয়। আমরা একথা ভেবে খুবই আনন্দ পাই যে আত্মা ও জগৎ এক ও অভিন্ন। আমরা যে এমনটি ভাবি তার কারণ অদ্বৈততত্ত্ব এক আনন্দদায়ক চিন্তা।
ব্যাখ্যা: এই অদ্বৈততত্ত্বকে ভালো লাগে কেন? কোন স্থানে যদি দুজন ব্যক্তি থাকেন তবে তাঁদের মধ্যে কখনো ভালো কখনো খারাপ সম্পর্ক হতে পারে। অনিশ্চয়তার বোধ তাঁদের সবসময় তাড়া করে বেড়ায়। তাঁদের মানসিক শান্তি বলে কিছু থাকে না।পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যদি দুই ব্যক্তির পরিবর্তে এক ব্যক্তি ও একটি বাঘ একসাথে থাকে। এই দুই-এর মধ্যে যে-কোন একজন জীবিত থাকবে—হয় মানুষটি, নাহয় বাঘটি। এইজন্যই অদ্বৈততত্ত্ব সবসময়েই সুখপ্রদ।
এই জগৎ সত্য নয়, কারণ এটি সতত পরিবর্তনশীল। চারিত্রিক দিক থেকে দেখতে গেলে এ জগৎ বৈচিত্রময়। তাই এখানে অদ্বৈতের কোন প্রশ্নই উঠে না। এ জগতের স্বতন্ত্র কোন অস্তিত্ব নেই। যদি এর কোনও অস্তিত্ব থেকে থাকে তা হল রজ্জুতে সাপের যেমন অস্তিত্ব, ঠিক সেইরকম। অর্থাৎ এ জগৎ আত্মার উপর আরোপিত মাত্র। একমাত্র আত্মজ্ঞান লাভ হলেই জানা যায়, এ জগৎ আগেও কখনো ছিল না, পরেও কখনো থাকবে না।
এ জগতে আমরা কত রকমের বৈচিত্র দেখে থাকি। কিন্তু যেহেতু জগৎই মিথ্যা সেহেতু এর বৈচিত্রগুলিও সব মিথ্যা। এক ও অভিন্ন আত্মাই একমাত্র সত্য। সেই আত্মাই হল অদ্বৈততত্ত্ব। আত্মা আনন্দস্বরূপ তাই অদ্বৈততত্ত্ব আনন্দময়। যতদিন আমাদের মধ্যে অজ্ঞানতা থাকবে ততদিন ভাবতে ভালো লাগে এই জগৎ ও আত্মা এক ও অভিন্ন।