এতৈরেষোঽপৃথগ্ভাবৈঃ পৃথগেবেতি লক্ষিতঃ।
এবং যো বেদ তত্ত্বেন কল্পয়েৎ সোঽবিশঙ্কিতঃ॥৩০
অন্বয়: এষঃ (এই আত্মা); এতৈঃ (পূর্বে যেমন বলা হয়েছে); অপৃথগ্ভাবৈঃ (প্রাণ ও অন্যান্য বস্তু থেকে যদিও আলাদা নন); পৃথগেব (পৃথকরূপে); ইতি লক্ষিতঃ (অজ্ঞান ব্যক্তি এভাবেই দেখেন); যঃ (বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষ); তত্ত্বেন (প্রকৃত স্বরূপ); এবং বেদ (এইভাবে জানেন); সঃ (সেই ব্যক্তি); অবিশঙ্কিতঃ (তাঁর মন সবরকমের ভয় থেকে মুক্ত); কল্পয়েৎ (বেদের বাণী নিয়ে চিন্তা করেন)।
সরলার্থ: আত্মা হলেন সেই আশ্রয় যাঁর উপর সকল অনিত্য বস্তু অধিষ্ঠিত। আমাদের চারপাশে আমরা প্রাণেরই প্রকাশ দেখতে পাই। অজ্ঞান ব্যক্তি এই প্রাণ ও তার প্রকাশকে পৃথক বলে মনে করেন। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি জানেন, প্রাণ আত্মা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে, যা কিছু আছে তা সব আত্মারই বিকার। সবকিছুর মধ্যে এই এক আত্মাই বিরাজ করেন—একথা যিনি জানেন তিনি আত্মায় দৃঢ় বিশ্বাসী এবং ভয়শূন্য। যিনি আত্মজ্ঞান লাভ করেছেন তিনি বেদের বাণীসমূহকে উপলব্ধি করেছেন—একথা তিনি দাবি করতে পারেন।
ব্যাখ্যা: দড়ি ছাড়া রজ্জুসর্পে যেমন সাপের কোনও অস্তিত্ব নেই, ঠিক তেমনি আত্মা ছাড়াও এ জগতের কোনও অস্তিত্ব নেই। আত্মার উপরেই এই জগৎ আরোপিত, দাঁড়িয়ে আছে। আত্মাই সেই অধিষ্ঠান যাঁর উপর এ জগৎ প্রতিষ্ঠিত। আত্মা ও জগৎ আলাদা এমন কথা ভাবাও ভুল। প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেন, এই জগৎ আত্মার প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমরা চারিদিকে যে বৈচিত্র দেখে থাকি, সেই বৈচিত্রের মধ্যেও এক আত্মাই বিরাজ করছেন, এই আত্মারই বৈচিত্র। যিনি এই সত্যকে জেনেছেন তিনিই বেদের সারমর্ম বুঝতে সক্ষম। আত্মা এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু নাম-রূপের দরুন এই এক আত্মাই বহু হয়েছেন।