অদীর্ঘত্বাচ্চ কালস্য গত্বা দেহান্ন পশ্যতি।
প্রতিবুদ্ধশ্চ বৈ সর্বস্তস্মিন্দেশে ন বিদ্যতে॥২
অন্বয়: কালস্য অদীর্ঘত্বাৎ চ (এই কারণেও যে কাল সংক্ষিপ্ত); দেহাৎ গত্বা (দেহের বাইরে গিয়ে); [স্বপ্নন্] ন পশ্যতি (স্বপ্নে দৃষ্ট বস্তুগুলি দেখে না); সর্বঃ প্রতিবুদ্ধঃ চ (যখন মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়); তস্মিন্ দেশে ন বৈ বিদ্যতে (স্বপ্নস্থানে নিজেকে দেখতে পায় না)।
সরলার্থ: মানুষ স্বপ্নের সময় দেহ থেকে বেরিয়ে স্বপ্নদৃষ্ট স্থানে যায়—একথা ঠিক নয়। এটা অসম্ভব। যদি সে দেহ থেকে বেরিয়ে যায় তবে ঘুম ভাঙার আগে ঐ অল্পসময়ের মধ্যে সে ফিরে আসতে পারত না। আবার জেগে ওঠার পর সে আর নিজেকে স্বপ্নদৃষ্ট স্থানে দেখে না।
ব্যাখ্যা: স্বপ্ন যে মিথ্যা একথা বোঝাবার জন্য গৌড়পাদ আরও একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন। ধরা যাক, আমি স্বপ্ন দেখছি আমি কাশীতে গেছি। কিন্তু জেগে উঠে দেখলাম আমি নিজের ঘরেই আছি। এখন এই কাশী যাওয়া ও ফিরে আসার জন্য যে দীর্ঘ সময়ের দরকার সেই সময় পাওয়া গেল কিভাবে? অল্প সময়ের মধ্যে (কালস্য অদীর্ঘত্বাৎ) এ যাত্রা অসম্ভব। আগের শ্লোকে দেখেছি যে স্বপ্নে দেখা বস্তুগুলি (যেমন পর্বত ইত্যাদি) আমাদের এই ক্ষুদ্র দেহের মধ্যে থাকতে পারে না, তাই সেগুলি সত্য নয়। আর একটি যুক্তি হল, যদিও স্বপ্নে দেখছিলাম যে আমি কাশীতে রয়েছি কিন্তু জেগে উঠেই দেখি আমি কাশীতে নেই আমার ঘরেই আছি। সুতরাং সত্যি সত্যিই কাশী যাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। এ সবই মনের ভুল।
আচার্য শঙ্কর এখানে আরও একটি যুক্তি দিয়েছেন। যেমন আমি স্বপ্নে দেখছি আমি কাশী গেছি। সেখানে বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়-বন্ধুদের দেখছি এবং আমি মনে করছি যে আমি সত্যিই কাশীতে আছি। কিন্তু পরে সেইসব আত্মীয়-বন্ধুরা আমাকে কখনো বলেনি : ‘ওঃ তোমার সঙ্গে কাশীতে দেখা হওয়ায় কি ভালোই না লেগেছিল। সেখানে আমাদের কতই না আনন্দ হয়েছিল!’ এরকম আমাদের কখনো ঘটে না। এই কারণেই আচার্য শঙ্কর বলছেন যে এই ধরনের ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা কখনো সত্যের মাপকাঠি হতে পারে না।