জীবং কল্পয়তে পূর্বং ততো ভাবান্ পৃথগ্বিধান্।
বাহ্যানাধ্যাত্মিকাংশ্চৈব যথাবিদ্যস্তথাস্মৃতিঃ॥১৬
অন্বয়: পূর্বম্ (প্রথম); জীবম্ (আমি কর্তা এই বোধ); কল্পয়তে (এইভাবে আত্মা অনুভব করেন); ততঃ (তারপরে); বাহ্যান্ (বাহ্যবস্তু); আধ্যাত্মিকান্ চ (অন্তরে সুখ-দুঃখের বোধ); পৃথগ্বিধান্ (বিভিন্ন প্রকার); ভাবান্ (বস্তুসমূহ); যথা বিদ্যাঃ (তার প্রত্যক্ষ অনুভূতি অনুযায়ী); তথা স্মৃতিঃ (সে মনে করে)।
সরলার্থ: প্রথমে জীবাত্মা কল্পনা করে। সে অনুভব করে এবং বলে ‘আমিই কর্তা’ (আমি সুখী, আমি দুঃখী ইত্যাদি)। এরপর সে কল্পনা করে শব্দের মতো বাহ্যবস্তুগুলিকে ও প্রাণের মতো অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বস্তুকে। জীবাত্মা তার নিজ কল্পনা অনুযায়ী বস্তুকে উপলব্ধি করে থাকে।
ব্যাখ্যা: প্রথমে পরমাত্মা নিজেকে জীবাত্মা বলে কল্পনা করেন। এ যেন রজ্জুতে সর্পভ্রম। এ ভুল থেকেই ক্রমে এইরকম চিন্তা আসে : ‘আমি এটি করেছি, আমি সুখী ইত্যাদি।’ বস্তুত এইসব গুণাবলী কাল্পনিকভাবে নিজের উপরে আরোপ করে। আত্মা স্বরূপত নির্গুণ।
একটি ভুল থেকেই অন্য ভুলের উৎপত্তি। পরমাত্মা নিজেকে জীবাত্মা বলে মনে করলে তখন তাঁর বহির্জগতে ও অন্তর্জগতে কল্পনার অন্ত থাকে না। এইসব বস্তুসকলের মধ্যে কোনটা কারণ আর কোনটা কার্য। কার্য কারণের অনুগামী, আবার কারণ কার্যের অনুগামী। এর কার্যপ্রণালী এইরকম : ধরা যাক, তুমি কিছু মিষ্টি খাচ্ছ এবং সেগুলি তোমার কাছে অতি উপাদেয় বলে মনে হচ্ছে। এখানে মিষ্টি হল কারণ আর সেগুলিকে যে উপাদেয় বলে মনে হচ্ছে তা হল কার্য। আবার যেহেতু মিষ্টি তোমার কাছে উপাদেয়, সেহেতু তুমি মিষ্টি খেতেও চাও এবং মিষ্টি খাও। এখানে কার্য কারণে এবং কারণ কার্যে পরিণত।
কিন্তু এটা হল বাহ্য জগতের ব্যাপার। ঠিক একই ব্যাপার আমরা মানসিকভাবেও উপলব্ধি করতে পারি। আমার মিষ্টি খাওয়ার স্মৃতি রয়েছে এবং এই স্মৃতির জন্যই আমি মিষ্টি খেতে চাই এবং মিষ্টি খাই।
এইভাবে বাহ্য ও অভ্যন্তরীণ বস্তুর পরস্পরের প্রভাবের ফলে জীবাত্মা নিজ মনোসৃষ্ট বিষয়সমূহের দাস হয়ে পড়ে।