দক্ষিণাক্ষিমুখে বিশ্বো মনস্যন্তস্তু তৈজসঃ।
আকাশে চ হৃদি প্রাজ্ঞস্ত্রিধা দেহে ব্যবস্থিতঃ॥২
অন্বয়: বিশ্বঃ (জাগ্রত অবস্থার আত্মা যা স্থূলবস্তু প্রত্যক্ষে সক্ষম); দক্ষিণাক্ষিমুখে (এই দেখার জন্য নিজ ডান চোখ ব্যবহার করেন); তৈজসঃ (স্বপ্নবস্থায়ও সেই অভিন্ন আত্মা); মনস্যম্ভঃ (স্বপ্নের মধ্য দিয়ে যখন এই স্থূলজগৎকে পুনরায় উপলব্ধি করে); প্রাজ্ঞঃ হৃদি চ আকাশে (সেই একই আত্মা হৃদয়মধ্যস্থিত শুদ্ধ চৈতন্যরূপে); ত্রিধা দেহে ব্যবস্থিতঃ (তিনটি অবস্থার মধ্য দিয়ে একই দেহে এটি বিস্তৃত)।
সরলার্থ: জাগ্রত অবস্থায় আত্মা হল বিশ্ব, সেই আত্মা তাঁর ডান চোখ দিয়ে স্থূল-জগৎকে প্রত্যক্ষ-সক্ষম। আত্মা যখন স্বপ্নের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করেন তখন আত্মাকে বলে ‘তৈজস’, আবার হৃদয়ে যখন শুদ্ধ চৈতন্যরূপে বিরাজিত, আত্মার সেই অবস্থাকে বলে প্রাজ্ঞ। আত্মা এক এবং অভিন্ন। একই দেহের তিনটি বিভিন্ন অবস্থার মধ্যেও সেই এক আত্মা বিরাজিত।
ব্যাখ্যা: প্রাচীনেরা বিশ্বাস করতেন, যখন আমরা এই জগৎকে দেখি তখন আমরা বাম চোখের থেকে ডান চোখ বেশি ব্যবহার করে থাকি। এ ধারণা সত্য হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। আমাদের জাগ্রত অবস্থার কথা বলতে গিয়ে গৌড়পাদ এই প্রাচীন ধারণাটির উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যে জাগ্রত অবস্থায় আমরা যখন আমাদের ডান চোখের সাহায্যে এই জগৎকে দেখি, তখন আমাদের বলা হয় ‘বিশ্ব’, যখন আমরা মনের দ্বারা এই জগৎকে উপলব্ধি করি তখন আমাদের বলা হয় ‘তৈজস’। সবই তখন অন্তর্মুখী। মানুষের হৃদয়স্থিত ক্ষুদ্র আকাশে এই আত্মা রয়েছেন। ‘প্রাজ্ঞ’ অবস্থায় চৈতন্য বাইরের জগৎকে পরিহার করে কেবলমাত্র হৃদয়াকাশে বিরাজ করেন। মূল কথাটি হল আত্মা অবিকৃত, স্ব-অবস্থায় অবস্থিত। আমরা জাগ্রত অথবা গাঢ় নিদ্রায় অভিভূত থাকতে পারি কিন্তু আত্মার তাতে কিছু যায় আসে না। এই সেই একই আত্মা যিনি মুক্ত এবং কোন কিছুর অধীন নন।