প্রণবং হীশ্বরং বিদ্যাৎ সর্বস্য হৃদি সংস্থিতম্।
সর্বব্যাপিনমোঙ্কারং মত্ব ধীরো ন শোচতি॥২৮
অন্বয়: প্রণবং হি সর্বস্য হৃদি সংস্থিতম্ ঈশ্বরং বিদ্যাৎ (সকলের হৃদয়ে ঈশ্বররূপে প্রণব রয়েছেন—তা জান); ধীরাঃ (প্রাজ্ঞ ব্যক্তি); সর্ব-ব্যাপিনম্ ওঙ্কারং মত্বা (এই সর্বব্যাপী প্রণবকে জেনে); ন শোচতি (সকল দুঃখ-কষ্টের পারে চলে যান)।
সরলার্থ: প্রণবকে সেই ঈশ্বর বলে জানতে হবে যিনি সকলের হৃদয়ে রয়েছেন এবং সকলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা প্রণবকে সর্বব্যাপী বলে জানেন। এমন মানুষ কখনো দুঃখে কাতর হন না। অর্থাৎ তিনি সুখ-দুঃখের পারে চলে যান।
ব্যাখ্যা: প্রণবকে ঈশ্বর বলে জানতে হবে। ‘ব্রহ্ম’ শব্দের পরিবর্তে গৌড়পাদ এখানে ‘ঈশ্বর’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অন্তর্যামী ঈশ্বর সকলের হৃদয়ে রয়েছেন। তিনি সকলের অন্তরাত্মা। এই প্রণব অর্থাৎ ওম্ সর্বব্যাপী। ওম্-ই সেই সর্বব্যাপী ব্রহ্ম। তিনি এবং ব্রহ্ম এক ও অভিন্ন—একথা জেনে জ্ঞানী ব্যক্তিরা কখনো শোক করেন না। যখন আমরা এই জ্ঞান লাভ করি তখনি আমরা জ্ঞানী ব্যক্তিতে পরিণত হই। তখন আমরা সুখ-দুঃখ অর্থাৎ দুই বোধের ঊর্ধ্বে চলে যাই। আমাদের সকল দুঃখ-কষ্টের মূলে হচ্ছে এই অজ্ঞানতা। যখন আমরা সকলের মধ্যে—‘এক’ অর্থাৎ ব্রহ্মকে দেখতে পারব, তখন আমরা সব দুঃখ-কষ্টের পারে চলে যাব।