ওঙ্কারং পাদশা বিদ্যাৎপাদা মাত্রা ন সংশয়ঃ।
ওঙ্কারং পাদশো জ্ঞাত্বা ন কিঞ্চিদপি চিন্তয়েৎ॥২৪
অন্বয়: ওঙ্কারং পাদশঃ বিদ্যাৎ (সাধককে ওঁকারের প্রতিটি অবস্থা জানতে হবে); পাদাঃ মাত্রাঃ সংশয়ঃ ন (পাদসমূহ [অবস্থা] যে মাত্রা [অক্ষর] এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই); ওঙ্কারং পাদশঃ জ্ঞাত্বা (বিভিন্ন পাদ [অবস্থা]-এর মধ্য দিয়ে ওঁকারকে জেনে); কিঞ্চিৎ অপি ন চিন্তয়েৎ (আর কিছু নিয়ে সাধকের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। [সাধক তখন নিজেকে ধন্য মনে করেন ])।
সরলার্থ: প্রতিটি অবস্থার মধ্য দিয়ে ওম্-কে জানার চেষ্টা করতে হবে। এ-বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে পাদসমূহ (অবস্থাসকল) এবং মাত্ৰাসকল (অক্ষরগুলি) এক ও অভিন্ন। ওম্-কে যদি তার বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে জানা যায় তবে সাধকের আর কোনও চিন্তা থাকে না। সাধক তখন নিজেকে ধন্য মনে করেন।
ব্যাখ্যা: ব্রহ্মের বিভিন্ন অবস্থার মতো অ, উ, ম বিভিন্ন অংশ, বিভিন্ন অবস্থা-মাত্র। ব্রহ্মই স্থূল জগৎ, ব্রহ্মই সূক্ষ্ম জগৎ, ব্রহ্মই কারণ জগৎ এবং ব্রহ্মই তুরীয়। একই ব্রহ্ম বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেন। একইভাবে, অ, উ, ম বিভিন্ন শব্দ হলেও এরা কিন্তু সেই একই ওম্ অর্থাৎ একই ব্রহ্ম। এই ওম্-কে তাঁর বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের জানতে হবে। কিন্তু একথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এ সবই সেই এক ব্রহ্ম, যিনি নিজেকে নানারূপে প্রকাশ করেছেন।