নিবৃত্তেঃ সর্বদুঃখানামীশানঃ প্রভুরব্যয়ঃ।
অদ্বৈতঃ সর্বভাবানাং দেবস্তুৰ্যো বিভুঃ স্মৃতঃ॥১০
অন্বয়: অব্যয়ঃ (অপরিবর্তনীয়); ঈশানঃ (তুরীয় [প্রভু]); সর্বদুঃখানাং নিবৃত্তেঃ প্রভুঃ (সর্বদুঃখনাশক [অর্থাৎ প্রাজ্ঞ, তৈজস এবং বিশ্ব এই তিন অবস্থার নাশ]); সর্বভাবানাম্ ([কারণ] সব বস্তু [অসত্য] হওয়ায়); অদ্বৈতঃ (অদ্বিতীয়); দেবঃ (প্রকাশিত, জ্যোতির্ময়); তুৰ্য্যঃ (তুরীয়); বিভুঃ (সর্বব্যাপী ঈশ্বর); স্মৃতঃ ([স্মৃতির দ্বারা] এভাবে বর্ণিত)।
সরলার্থ: প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা তুরীয়কে এভাবে বর্ণনা করেছেন: এক ও অভিন্ন, সর্বব্যাপী (ঢেউয়ে যেমন জল থাকে), সম্পূর্ণভাবে এই দৃশ্যমান জগৎকে বর্জন, স্বয়ংপ্রকাশ, শুদ্ধ চৈতন্য, পরব্রহ্ম, একমাত্র তিনিই সকল দুঃখমোচনে সক্ষম। (পরব্রহ্মের সঙ্গে নিজ অভিন্নতা উপলব্ধি করতে পারলে সকল দুঃখের অবসান হয়।)
ব্যাখ্যা: বিশ্ব, তৈজস অথবা প্রাজ্ঞ—সব অবস্থাতেই আমরা দুঃখ-কষ্ট ভোগ করি। অবিদ্যা এই তিন অবস্থাতেই প্রভাব বিস্তার করে। আমরা যদি প্রাজ্ঞকে অতিক্রম করে তুরীয়তে লীন হতে পারি তবে আর কোনও দুঃখ-কষ্টের অবকাশ থাকে না। তুরীয় বলতে এখানে ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে—একমাত্র তিনিই আমাদের দুঃখমোচন করতে পারেন। বস্তুত তুরীয়ই আমাদের আত্মা। জীবনের লক্ষ্যই হল এই আত্মাকে জানা। যখন আমরা আত্মজ্ঞান লাভ করতে পারব তখন আমরা উপলব্ধি করতে পারব আত্মা ছাড়া আর দ্বিতীয় কিছু নেই। দ্বিতত্ত্বের ধারণা তখন পুরোপুরি দূরীভূত হয়। আত্মা জ্যোতির্ময়। যেন আত্মার বিচ্ছুরিত আলোকেই আমরা সকল বস্তুর মধ্যে ঐক্য দর্শনে সক্ষম হই।