ঊর্ধ্বমূলোঽবাক্শাখ এষোঽশ্বত্থন্ সনাতনঃ ।
তদেব শুক্রং তদ্ ব্রহ্ম তদেবামৃতমুচ্যতে ।
তস্মিঁল্লোকাঃ শ্রিতাঃ সর্বে তদু নাত্যেতি কশ্চন ॥ এতদ্বৈ তৎ ॥ ১॥
(এই মন্ত্রের শেষের চারটি চরণ ২ ।২ ।৮-এর মন্ত্রের অনুরূপ ।)
ব্যাখ্যা—এখানে এই জগৎরূপ সংসারকে একটি অশ্বত্থ বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে । এই জগৎ-সংসারের মূলভূত কারণ পরব্রহ্ম হলেন সর্বোপরি অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাপেক্ষা সূক্ষ্ম এবং সর্বশক্তিমান । ব্রহ্মা হলেন সেই অশ্বত্থ গাছের প্রধান শাখা আর শাখাপ্রশাখারূপে দেবতা, মনুষ্য, পিতৃগণ, পশুপক্ষী আদি ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে বিস্তৃত । এই জগৎরূপ অশ্বত্থ বৃক্ষ অনাদি কাল থেকে নিত্য প্রবাহরূপে বর্তমান । কখনো প্রকটরূপে, কখনো অপ্রকট রূপে নিজ কারণস্বরূপ পরব্রহ্মে নিত্য অবস্থিত । সুতরাং এই অশ্বত্থ চিরন্তন । এর যে মূল কারণ, যাঁর থেকে এর সৃষ্টি হয়েছে, এ যাঁর দ্বারা সুরক্ষিত এবং যাঁতে বিলীন হয়—তিনিই বিশুদ্ধতত্ত্ব আর তিনিই ব্রহ্ম । তাঁকেই অমৃত বলা হয় । তাঁতেই সমস্ত লোক আশ্রিত । কেউ তাঁকে অতিক্রম করতে পারে না । হে নচিকেতা ! তুমি যে কথা জানতে চাও, ইনিই সেই তত্ত্ব ॥ ১ ॥