য ইমং মধ্বদং বেদ আত্মানং জীবমন্তিকাৎ ।
ঈশানং ভূতভব্যস্য ন ততো বিজুগুপ্সতে ॥ এতদ্বৈ তৎ ॥ ৫॥
ব্যাখ্যা—যে সাধক সেই পরব্রহ্ম পরমেশ্বরকে এরূপ বুঝতে পারেন যে, যিনি সকলের জীবন-দাতা, সকল জীবের জীবনের জীবন, সকল কর্মের ফলদাতা তথা ভূত ভবিষ্যৎ ও বর্তমান জগতের একমাত্র শাসনকর্তা (নিয়ন্ত্রণকর্তা)—‘তিনিই নিরন্তর আমার নিকটে এবং আমার অন্তরে বিরাজ করছেন ।’ তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে এও অনুমান করে নিতে পারেন যে সেই নিয়ন্ত্রণকর্তা সকল প্রাণীর হৃদয়েই বিরাজমান । তার ফলে তিনি পরমেশ্বরের বিরাট স্বরূপকে আর কখনো ভুলতে পারেন না । আর সেইজন্য তিনি কখনো কারো নিন্দা করেন না, কাউকে ঘৃণা বা হিংসাও করেন না ।
নচিকেতা ! তুমি যে ব্রহ্ম বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ, ইনিই সেই ব্রহ্ম, যাঁর সম্বন্ধে তোমাকে জানালাম॥ ৫ ॥
সম্বন্ধ—এবারে জানাচ্ছেন যে, ব্রহ্ম থেকে স্থাবর পর্যন্ত সকল প্রাণী তাঁর থেকেই উৎপন্ন হয়েছে, অতএব যা কিছু সবই তাঁরই বিশেষ রূপ । তিনি ছাড়া আর কিছুই নেই, কেননা এই সমগ্র জগতের যুগপৎ নিমিত্ত এবং উপাদান-কারণ পরমেশ্বরই, যিনি এক হয়েও বহুরূপে বিরাজমান ।