শ্রেয়শ্চ প্রেয়শ্চ মনুষ্যমেতস্তৌ সম্পরীত্য বিবিনক্তি ধীরঃ ।
শ্রেয়ো হি ধীরোঽভি প্রেয়সো বৃণীতে প্রেয়ো মন্দো যোগক্ষেমাদ্ বৃণীতে ॥ ২॥
ব্যাখ্যা—অধিকাংশ মানুষ তো পুনর্জন্মে বিশ্বাস না থাকার জন্য এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনাই করে না । তারা ভোগে আসক্ত হয়ে নিজেদের দুর্লভ মানব-জীবনকে পশুর মতো ভোগ করতে করতে শেষ করে দেয় । কিন্তু যাদের পুনর্জন্মে এবং পরলোকে বিশ্বাস আছে, সেই সব বিচারশীল মানুষের সামনে যখন শ্রেয় আর প্রেয়—দুটির মধ্যে কোনটি গ্রহণযোগ্য বিষয় বলে সমস্যা দেখা দেয়, তখন তারা এই দুই-এর দোষগুণ যুক্তিতর্ক দিয়ে বিচার করে, দুটিকে আলাদা আলাদা ভাবে বোঝার চেষ্টা করে । এদের মধ্যে যারা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তারা দুটির তত্ত্বকেই ভালোভাবে বুঝে নিয়ে ‘হংসের ন্যায় জল থেকে দুধটুকু’ গ্রহণ করার মতো প্রেয়কে উপেক্ষা করে শ্রেয়কেই বরণ করে নেয় । কিন্তু যারা অল্পবুদ্ধি, যাদের মধ্যে বিচার শক্তির অভাব, তারা শ্রেয়ের ফলকে অবিশ্বাস করে প্রত্যক্ষ লৌকিক ভোগ-সুখের মোহে প্রেয়কে বরণ করে নেয় । তারা এটুকু মাত্র বোঝে যে, যা কিছু ভোগ্য সামগ্রী অর্জিত হয় সেগুলি সুরক্ষিত থাকুক আর যা এখনো পাওয়া হয়নি সে সকল বস্তু যেন প্রচুর পরিমাণে লাভ করতে পারি ! তাদের চোখে ‘যোগক্ষেমের’ অর্থ এটুকুই॥ ২ ॥
সম্বন্ধ—পরমাত্ম-লাভের সাধনস্বরূপ শ্রেয়ের প্রশংসা করে যমরাজ এবার সাধারণ মানুষের থেকে নচিকেতার বিশেষত্ব দেখিয়ে তার বৈরাগ্যের প্রশংসা করছেন—