অণোরণীয়ান্মহতো মহীয়ানাত্মাঽস্য জন্তোর্নিহিতো গুহায়াম্ ।
তমক্রতুঃ পশ্যতি বীতশোকো ধাতুপ্রসাদান্মহিমানমাত্মনন্॥ ২০॥(১)
(১)এই মন্ত্র শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্ (৩ ।২০)-ও আছে ।
ব্যাখ্যা—এর আগে জীবাত্মার শুদ্ধ স্বরূপের কথা বলা হয়েছে, তাঁকেই আবার এই মন্ত্রে ‘জন্তু’ বা জীব নাম দিয়ে তাঁর বদ্ধাবস্থার কথা বলা হচ্ছে । তাৎপর্য হল যদিও পরব্রহ্ম পুরুষোত্তম ওই জীবাত্মার অতি নিকটে, যেখানে সে স্বয়ং বাস করে সেখানেই অবস্থান করা সত্ত্বেও জীবাত্মা তাঁকে লক্ষ্য করে না । মোহের বশে ভোগে লিপ্ত থাকায় ভুলে থাকে । এইজন্য একে ‘জন্তু’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে । কেননা মানুষের শরীর লাভ করেও সে কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি হীন প্রাণীদের মতো নিজের দুর্লভ জীবন বৃথা নষ্ট করছে । যে সাধক উল্লিখিত বর্ণনা অনুসারে নিজেকে নিত্য চেতনস্বরূপ বলে বিবেচনা করে সমস্তরকম ভোগ সুখের কামনারহিত ও শোকতাপশূন্য হতে পারে, সে পরমাত্মার কৃপায় অনুভব করতে পারে যে, পরব্রহ্ম পুরুষোত্তম সূক্ষ্ম থেকেও সূক্ষ্ম আর মহৎ থেকেও মহত্তর । তিনি সর্বব্যাপী, আর এই প্রকারে তাঁর মহিমা উপলব্ধি করেই সে তাঁর সাক্ষাৎ দর্শন লাভ করে । (এখানে ‘ধাতু প্রসাদাৎ’-এর অর্থ পরমেশ্বরের কৃপা ধরা হয়েছে ।) ‘ধাতু’ শব্দের অর্থে সর্বাধার পরমেশ্বরকে চিহ্নিত করা হয়েছে । বিষ্ণুসহস্রনামেও—‘অনাদিনিধনো ধাতা বিধাতা ধাতুরুত্তমঃ’—‘ধাতু’-কে ভগবানের একটি নাম মানা হয়েছে ॥ ২০ ॥