কামস্যাপ্তিং জগতঃ প্রতিষ্ঠাং ক্রতোরনন্ত্যমভয়স্য পারম্ ।
স্তোমমহদুরুগায়ং প্রতিষ্ঠাং দৃষ্ট বা ধৃত্যা ধীরো নচিকেতোঽত্যস্রাক্ষীন্ ॥ ১১॥
ব্যাখ্যা—হে নচিকেতা ! তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং নিষ্কাম । আমি তোমাকে বরদানরূপে স্বর্গলোকের কথা উল্লেখ করেছি, যা সমস্ত রকম ভোগে পরিপূর্ণ, জগতের আধার স্বরূপ, যজ্ঞাদি শুভ কর্মের অনন্ত ফলদায়ক, সমস্তরকম দুঃখ এবং ভয়বর্জিত, স্তুতি তথা প্রার্থনার যোগ্য পদার্থ এবং অতি মহৎ । বেদ-শাস্ত্র যার গুণগানে মুখর এবং যা দীর্ঘকাল স্থায়ী, তুমি তার বিশালত্ব বুঝেও ধৈর্যের সঙ্গে তাকে পরিত্যাগ করেছ । তোমার মন তাতে এতটুকুও আসক্ত হয়নি, তুমি তোমার ধারণাতে দৃঢ় এবং অবিচল—এ জিনিস সাধারণ নয় । এইজন্য আমি দৃঢ়নিশ্চয় যে তুমি অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং অনাসক্ত । অতএব তুমি আত্মজ্ঞান লাভের প্রকৃত অধিকারী॥ ১১॥
সম্বন্ধ—নচিকেতার এরূপ নিষ্কামভাব দেখে যমরাজ নিশ্চিত হলেন যে তিনি সত্যি সত্যি পরমাত্ম-জ্ঞান লাভের যথার্থ অধিকারী । তাই তাঁর মনে পরব্রহ্ম পুরুষোত্তমের তত্ত্ব সম্বন্ধে প্রশ্ন জাগাবার জন্যে যমরাজ পরবর্তী দুটি মন্ত্রে পরব্রহ্ম পরমাত্মার মহিমা বর্ণনা করছেন—