ত ্ঁহ কুমার ্ঁ সন্তং দক্ষিণাসু নীয়মানাসু শ্রদ্ধাঽঽবিবেশ সোঽমন্যত ॥ ২ ॥
ব্যাখ্যা—সেকালে গাভীই ছিল প্রধান সম্পদ, আর বাজশ্রবস উদ্দালকের গৃহে এই সম্পদের অভাব ছিল না । হোতা, অর্ধ্বযু, ব্রহ্মা আর উদ্গাতা—এই চার জন প্রধান ঋত্বিক অন্যান্যদের চেয়ে বেশি সংখ্যক গাভী দানরূপে পেতেন । এইরূপ নিয়মই সেকালে প্রচলিত ছিল বলে মনে করা হয় । তারপর প্রশাস্তা, প্রতিপ্রস্থাতা, ব্রাহ্মণাচ্ছংসী আর প্রস্তোতা—এই চার জন গৌণ ঋত্বিক প্রধান ঋত্বিকদের অর্ধেক ; অচ্ছাবাক্, নেষ্টা, আগ্নীধ্র আর প্রতিহর্তা—এই চার গৌণ ঋত্বিক প্রধান ঋত্বিকদের এক-তৃতীয়াংশ এবং গ্রাবস্তুৎ, নেতা, পোতা আর সুব্রহ্মণ্য—এই চার জন গৌণ ঋত্বিককে প্রধান ঋত্বিকদের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ গাভী দানরূপে দেওয়া হত । যজ্ঞের নিয়মানুসারে দক্ষিণাস্বরূপ দান করবার জন্যে যখন গাভীগুলিকে যজ্ঞস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন বালক নচিকেতা সেগুলিকে দেখতে পেলেন । গাভীগুলির করুণ অবস্থা দেখে বালক হলেও নচিকেতার নির্মল হৃদয়ে শ্রদ্ধার উদ্রেক হল আর তিনি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন॥ ২ ॥
পীতোদকা জগ্ধতৃণা দুগ্ধদোহা নিরিন্দ্রিয়াঃ ।
অনন্দা নাম তে লোকাস্তান্ স গচ্ছতি তা দদৎ ॥ ৩ ॥
ব্যাখ্যা—পিতা কী ধরনের গাভীগুলি দক্ষিণারূপে দান করছেন ? এখন এদের না আছে ঝুঁকে জল পান করার ক্ষমতা, না আছে চিবিয়ে ঘাস খাবার মতো দাঁত, আর না আছে এদের বাঁটে এতটুকু দুধ । অধিকন্তু এদের ইন্দ্রিয়গুলিও শুকিয়ে গেছে—এদের গর্ভধারণের ক্ষমতা আর নেই । হায় ! এইরকম অকর্মণ্য আর মরণাপন্ন গাভীগুলি যে ব্রাহ্মণ ঘরে নিয়ে যাবেন তিনিও তো এগুলির থেকে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই পাবেন না । অন্তত এমন বস্তু দান করা উচিত যা নিজের কাছে যেমন সুখকর, প্রিয় এবং উপযোগী তেমনি সেগুলি যাকে দান করা হচ্ছে তার কাছেও যেন সুখকর এবং উপযোগী হয় । দান করার নাম করে দুন্খদায়ক, অনুপযোগী বস্তুর দানরূপ কর্মের দ্বারা তো দানের অমর্যাদা করা হয় এবং নিজের অমঙ্গল ডেকে আনা হয় । এর ফলে দান গ্রহণকারীকেও বঞ্চনা করা হয় । এই ধরনের দানে দাতার সেইসব নীচ যোনিতে আর নরকাদিতে গতি হয় যেখানে স্বর্গসুখ তো দূরের কথা, সুখের চিহ্ন মাত্র নেই । পিতা তাহলে এই দানে কী পুণ্য লাভ করবেন ? এ তো যজ্ঞের একরূপ বৈগুণ্য, কারণ ইনি সর্বস্ব দানের সংকল্প করেও উত্তম গাভীগুলি আমার জন্যে রেখে দিয়েছেন । আর শুধু তাই নয়, সর্বস্ব মানে তো তার মধ্যে আমিও আছি । আমিও তো পিতার সমস্ত সম্পদের মধ্যে এক সম্পদ । আমাকে তো ইনি কারো কাছে দান করেননি । কিন্তু আমি যেহেতু এঁর পুত্র, এঁকে এই অনিষ্টকর ভবিতব্য থেকে রক্ষা করা আমার কর্তব্য । নিশ্চিত অনিষ্ট থেকে পিতাকে রক্ষা করার জন্য পুত্র হিসাবে আমি নিজেকে উৎসর্গ করব । এ আমার ধর্ম॥ ৩ ॥