ন বিত্তেন তর্পণীয়ো মনুষ্যো লপ্স্যামহে বিত্তমদ্রাক্ষ্ম চেৎ ত্বা ।
জীবিষ্যামো যাবদীশিষ্যসি ত্বং বরস্তু মে বরণীয়ন্ স এব ॥ ২৭ ॥
ব্যাখ্যা—আপনি তো জানেন, ধনের দ্বারা মানুষ তৃপ্ত হয় না । আগুনে ঘি ঢাললে যেমন আগুন আরও তেজে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে, সেইরকম ধন এবং ভোগের প্রাপ্তিতে ভোগ বাসনা আরও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায় । তৃপ্তি কোথায় ? সেখানে তো দিনরাত শুধুই অপূর্ণতা, ফলে সর্বদাই জ্বলে মরতে হয় । কাজেই ওইরূপ দুঃখদায়ক ধন এবং ভোগ কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি চাইতে পারে না । আমার জীবন-রক্ষার জন্য যতটুকু ধনের প্রয়োজন সেটুকু তো আপনার দর্শনের ফলে আপনা-আপনি পেয়ে যাব, দীর্ঘ জীবনের কথা আর কী বলব, সেও যতদিন আপনি মৃত্যুর অধীশ্বর থাকবেন ততদিন আমার মরণেরও ভয় নেই । অতএব কোনো দিক দিয়েই অন্য বর যাচ্ঞা করা আমার ধারণায় যুক্তিসঙ্গত নয় । আমার প্রার্থনা একমাত্র ওই আত্মতত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞানই । এর পরিবর্তে অন্য কোনো বরই আমার কাম্য নয়॥ ২৭ ॥
সম্বন্ধ—এইরূপে ভোগের তুচ্ছতা প্রমাণ করে এবার নচিকেতা প্রার্থনীয় বরের গুরুত্ব জানিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে যমরাজকে পুনরায় নিবেদন করছেন—