যে যে কামা দুর্লভা মর্ত্যলোকে সর্বান্ কামা ্ঁশ্ছন্দতঃ প্রার্থয়স্ব ।
ইমা রামাঃ সরথাঃ সতূর্যা ন হীদৃশা লম্ভনীয়া মনুষ্যৈঃ ।
আভির্মৎপ্রত্তাভিঃ পরিচারয়স্ব নচিকেতো মরণং মাঽনুপ্রাক্ষীঃ ॥ ২৫ ॥
ব্যাখ্যা—হে নচিকেতা ! যে যে ভোগ মর্ত্যলোকে দুর্লভ সে সমস্ত তুমি চেয়ে নাও । সুসজ্জিত রথ, সঙ্গে বহু বাদ্যযন্ত্রসহ স্বর্গের সুন্দরী অপ্সরাসকল, যা মনুষ্যলোকে কোনোদিনই পাওয়া যায় না ; যাদের জন্য বড় বড় মুনি-ঋষিরা লালায়িত থাকে, সে সকল আমি অতি সহজেই তোমাকে দিচ্ছি । তুমি এদের নিয়ে যাও আর এদের দিয়ে তুমি যদৃচ্ছা পরিচর্যা করাও । কিন্তু নচিকেতা ! তোমাকে আবার বলছি, আত্মতত্ত্ব বিষয়ে তুমি কোনো প্রশ্ন কোরো না॥ ২৫ ॥
সম্বন্ধ—যমরাজ শিষ্যের প্রতি স্বভাবতই দয়ার্দ্রচিত্ত এবং মহান অভিজ্ঞ আচার্য । তিনি অধিকারীকে পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে তাকে এই ধরনের ভয় এবং একের পর এক চরম ভোগের প্রলোভন দেখিয়ে, খুঁটিকে যেমন নড়িয়ে নড়িয়ে ক্রমশ তার অবস্থান অনড় ও সুদৃঢ় করতে হয়, তেমনি করে অনাসক্তির ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করেছেন । প্রথমে দুর্বোধ্যতার ভয় দেখিয়েছেন, তারপর একের পর এক এই জগতের চরম ভোগের সকল ছবি তাঁর সামনে তুলে ধরেছেন, আর শেষে স্বর্গ সুখের প্রতিও তাঁর চরম বৈরাগ্য দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে স্বর্গের অনেক রকম দৈবী ভোগের ছবি তাঁকে দেখিয়েছেন ! আবার বলেছেন, এই সব ভোগকে যদি তুমি আত্মজ্ঞানের সমতুল্য মনে করো তবে চেয়ে নিতে পারো । কিন্তু নচিকেতা ছিলেন তাঁর প্রার্থনায় দৃঢ় নিশ্চয়সম্পন্ন এবং প্রকৃত অধিকারী । তিনি জানতেন যে এই সব ইহলোক এবং পরলোকের চরম ভোগ সুখ আত্মজ্ঞানের ক্ষুদ্রতম অংশেরও সমান নয় । অতএব তিনি নিজের নিশ্চিত বোধকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করে পূর্ণ অনাসক্তি দেখিয়ে যমরাজকে বললেন—