যেয়ং প্রেতে বিচিকিৎসা মনুষ্যেঽস্তীত্যেকে নায়মস্তীতি চৈকে ।
এতদ্বিদ্যামনুশিষ্টস্ত্বয়াহং বরাণামেষ বরস্তৃতীয়ঃ ॥ ২০॥
ব্যাখ্যা—ইহলোকের কল্যাণের জন্য পিতার সন্তুষ্টি বিধানের বর এবং পরলোকের জন্য স্বর্গদায়ক অগ্নিবিদ্যার সাধন প্রণালীর যথাযথ জ্ঞান লাভের বর লাভ করে এখন নচিকেতা আত্মার যথার্থ স্বরূপ এবং তার প্রাপ্তির উপায় জানবার জন্য যমরাজকে আত্মা সম্বন্ধে জনসাধারণের দুটি মত উল্লেখ করে এ বিষয়ে যমরাজের নিজস্ব মত কী তা বলবার জন্য অনুরোধ করছেন । নচিকেতা বললেন—‘ভগবন ! মৃত মানুষ সম্বন্ধে এক গভীর সংশয় ইহলোকে বর্তমান । কিছু লোকের ধারণা মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব বজায় থাকে, আবার কারো কারো ধারণা মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব থাকে না । এ বিষয়ে আপনার কী অভিমত তা আমাকে বলুন ।(১) আমি আপনার মুখ থেকে এই রহস্য যথাযথভাবে জেনে নিতে চাই । আপনি ছাড়া এই রহস্য আর কেউ জানে না । এটিই আমার তৃতীয় তথা অন্তিম বর ॥ ২০ ॥
(১)মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব থাকে কি থাকে না—এ সম্বন্ধে নচিকেতার কোনো সংশয় নেই । কারণ পিতাকে যজ্ঞের দক্ষিণাস্বরূপ জরাজীর্ণ গাভী দান করতে দেখে নচিকেতা স্পষ্ট বলেছিলেন যে এইরূপ অনুপযোগী বস্তুর দানকারীর আনন্দহীন নরকাদিতে গমন হয় । সেইরূপ দ্বিতীয় বরে নচিকেতা স্বর্গসুখের বর্ণনা করে স্বর্গ প্রাপ্তির উপায় স্বরূপ অগ্নিবিদ্যার উপদেশ প্রার্থনা করেছেন । এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে নচিকেতার স্বর্গ এবং নরকের প্রতি বিশ্বাস আছে । মানুষের স্বর্গ-নরকাদির প্রাপ্তি মৃত্যুর পরই হয় । আত্মার অস্তিত্ব না থাকলে কে এই সব লোক লাভ করবে ? অতএব এখানে নচিকেতা নিজের মত উল্লেখ না করে বলেছেন কিছু লোক আত্মার অস্তিত্ব মানে, আর কিছু লোক মানে না । এই প্রশ্নটি খুবই সুন্দরভাবে উত্থাপিত হয়েছে । কেননা এর উত্তরে আত্মার নিত্যত্ব, তার স্বরূপ, গুণ এবং চরম লক্ষ্য পরমাত্ম-প্রাপ্তির সাধন পদ্ধতি—এই সকল জিজ্ঞাসার সমাধান স্বতঃই বর্ণিত হয়েছে । অতএব এই প্রশ্ন আত্মজ্ঞান বিষয়ক, আত্মার অনস্তিত্ব বিষয়ক নয় । তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে উপলব্ধ নচিকেতার উপাখ্যানে নচিকেতা তৃতীয় বরে পুনর্মৃত্যুর (জন্ম-মৃত্যুর) উপর জয়লাভ বা মুক্তির সাধন পদ্ধতি জানতে চেয়েছেন । (তৃতীয়ং বৃণীষ্বেতি । পুনর্মৃত্যোর্মেঽপচিতিং ব্রূহি) ।
সম্বন্ধ—নচিকেতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুনে যমরাজ মনে মনে তাঁর খুব প্রশংসা করলেন । ভাবলেন ঋষি কুমার বালক হলেও অত্যন্ত প্রতিভাসম্পন্ন, প্রকারান্তরে আত্মার গোপন রহস্য জানতে চাইছে । কিন্তু আত্মতত্ত্ব তো উপযুক্ত অধিকারী ছাড়া আর কাউকে বলা চলে না । অনধিকারীকে আত্মতত্ত্ব উপদেশ অনিষ্টকর ; অতএব উপযুক্ত পাত্র নির্বাচন করা প্রয়োজন । এই ভেবে যমরাজ এই তত্ত্বের দুর্বোধ্যত্ব বর্ণনা করে নচিকেতাকে বিভ্রান্ত এবং নিশ্চেষ্ট করার চেষ্টায় বলছেন—