অথ য আত্মা স সেতুর্বিধৃতিরেষাং লোকানামসংভেদায় নৈত সেতুমহোরাত্রে তরতো ন জরা ন মৃত্যুর্ন শোকো ন সুকৃতং ন দুষ্কৃতং সর্বে পাপ্পানোহতো নিবর্তন্তেহপহতপাপ্পা হোষ ব্ৰহ্মলোকঃ ॥ ১
অন্বয় : অথ (অনন্তর) যঃ (যিনি) আত্মা, সঃ (তিনি) সেতুঃ, বিধৃতিঃ (ধারণকর্তা) এযাম্ লোকানাম্ (এই স্বর্গাদি লোকসমূহের) অসম্ভেদায় (ভিন্ন না হইয়া যায়, এইজন্য)। ন এতম্ সেতুম্ (এই সেতুকে) অহোরাত্রে (দিবস ও রাত্রি) তরতঃ (পার হইয়া যায়); ন জরা, ন মৃত্যুঃ, ন শোকঃ, ন সুকৃতম, ন দুষ্কৃতম্ সর্বে পাপ্পানঃ (সমুদয় পাপ) অতঃ (ইহা হইতে) নিবর্তন্তে (ফিরিয়া আইসে)। অপহত-পাপ্পা (বিগতপাপ) হি এষঃ (এই) ব্রহ্মলোকঃ (ব্রহ্মলোক)।
সরলার্থ : এই যে আত্মা, ইনি সেতুস্বরূপ। লোকসমূহ যাহাতে বিচ্ছিন্ন না হইয়া যায়, এইজন্য ইনি তাহাদের ধরিয়া রহিয়াছেন। দিন ও রাত্রি এই সেতু পার হইতে পারে না; জরা, মৃত্যু, শোক, সুকৃতি, দুষ্কৃতি—ইহারাও পারে না। সমস্ত পাপ ইহা হইতে ফিরিয়া আসে, কারণ এই ব্রহ্মলোক পাপবিহীন।
মন্তব্য : ‘সেতু’ শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ— (ক) দুই ক্ষেত্রকে পৃথক রাখিবার জন্য যে ‘আলি” দেওয়া হয় তাহার নাম সেতু। (খ) জলাভূমির মধ্য দিয়া সে বাঁধ দেওয়া হয়, কিংবা জলের এক পার হইতে অপর পারে যাইবার জন্য যে ‘সাঁকো’ প্রস্তুত করা হয় তাহার নামও সেতু। এস্থলে প্রশ্ন এই—এখানে সেতুকে পৃথক রাখিবার হেতু বলা হইয়াছে, না সংযোগের হেতু বলা হইয়াছে? অনেকেই প্রথম অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন। কিন্তু এস্থলে দ্বিতীয় অর্থই অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে হয়। ইহার পরের মন্ত্রেই বলা হইয়াছে যে, ব্ৰহ্মলোকে যাইতে হইলে এই সেতুই পার হইয়া যাইতে হয়। সুতরাং এই মন্ত্রে ‘সেতু’কে সংযোগেরই হেতু বলিতে হইবে।
অসম্ভেদায়—অ-সম্+ভেদায়। ‘অসম্ভেদায়’ শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হইতে পারে (১) মিশ্রিত না হইয়া যায় এই জন্য। (২) ভিন্ন না হইয়া যায় এই জন্য। (৩) বিদীর্ণ না হইয়া যায় বা বিনষ্ট না হইয়া যায় এই জন্য (শঙ্কর)। যাঁহারা সেতুকে পৃথক রাখিবার হেতু বলেন তাঁহারা প্রথম অর্থ গ্রহণ করেন; আর যাঁহারা সংযোগের হেতু বলেন তাঁহারা দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করিয়া থাকেন।