তং হোবাচ নৈতদব্রাহ্মণো বিবক্কুমর্হতি সমিধং সোম্যাহরোপ ত্বা নেষ্যে ন সত্যাদগা ইতি তমুপনীয় কৃশানামবলানাং চতুঃশতা গা নিরাকৃত্যোবাচেমাঃ সোম্যানু সংব্রজেতি তা অভিপ্রস্থাপয়নু বাচ নাসহস্রেণাবর্তেয়েতি স হ বর্ষগণং প্রোবাস তা যদা সহস্ৰং সম্পেদুঃ ॥ ৫
অন্বয় : তম্ (তাহাকে) হ উবাচ (বলিলেন)—ন (না) এতৎ (ইহা) অব্রাহ্মণঃ বিবক্কুম্ (বিশেষরূপে বলিতে) অর্থতি (সমর্থ হয়)। সমিধম্, সোম্য! আহর (আহরণ করে)। উপ ত্বা নেষ্যে (ত্ত্বা উপনেষ্যে—তোমাকে উপনীত করাইব)। ন সত্যাৎ (সত্য হইতে) অগাঃ (বিচলিত হও নাই) ইতি। তম্ (তাহাকে উপনীয় (উপনীত করিয়া, উপনয়ন সম্পন্ন করিয়া) কৃশানাম্ অবলানাম্ (কৃশ ও দুর্বলদিগের) চতুঃশতাঃ (বৈদিক প্রয়োগ; চতুঃশতম্ = চারি শত) গাঃ (গো-সমূহকে) নিরাকৃত্য (পৃথক করিয়া) উবাচ—ইমাঃ (এই সমুদয়কে) সোম্য! অনু সং ব্রজ (অনুগমন কর) ইতি। তাঃ (সেই সমুদয়কে) অভিপ্রস্থাপয়ন্ (লইয়া যাইবার সময়) উবাচ— ন অসহস্রেণ (সহস্রসংখ্যা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত) আবর্তেয় (ফিরিয়া আসিব) ইতি। সঃ হ বর্ষগণম্ (বহুবর্ষ) প্র + উবাস (প্রবাস করিয়াছিল)। তাঃ (তাহারা) যদা (যখন সহস্রম্ (সহস্ৰসংখ্যা) সংপেদুঃ (পূর্ণ হইয়াছিল)।
সরলার্থ : গৌতম সত্যকামকে বলিলেন, ‘অব্রাহ্মণ কখনও এরকম বলিতে পারে না। তুমি সমিধ কাষ্ঠ আন। আমি তোমাকে উপনীত করিব (অর্থাৎ তোমার উপনয়ন হইবে); তুমি সত্য হইতে বিচলিত হও নাই।’ তাহার উপনয়নের পর তিনি চারি শত দুর্বল ও কৃশ গরু পৃথক করিয়া নিয়া বলিলেন——হে সৌম্য, ইহাদের নিয়া যাও।’ গরু নিয়া যাইবার সময় সত্যকাম বলিল—’সহস্ৰ পূর্ণ না হইলে আমি ফিরিব না।’ এইরূপে সে বহু বৎসর অন্যত্র বাস করিল। গরুর সংখ্যা যখন এক সহস্র হইল—।