অথ যেহস্যোদঞ্চো রশ্ময়স্তা এবাস্যোদীচ্যো মধুনাড্যোহথর্বাঙ্গিরস এব মধুকৃত ইতিহাসপুরাণং পুষ্পং তা অমৃতা আপঃ ॥ ১
অন্বয় : অথ যে অস্য উদঞ্চঃ রায়ঃ (উত্তরদিকস্থ রশ্মিসমূহ), তাঃ এব অস্য উদীচ্যঃ মধুনাড্যঃ; অথর্বাঙ্গিরসঃ (অথবা ও অঙ্গিরা নামক ঋষিগণ কর্তৃক দৃষ্ট মন্ত্রসমূহ) এব মধুকৃতঃ; ইতিহাসপুরাণম্ (ইতিহাস ও পুরাণ) পুষ্পম্; তাঃ অমৃতাঃ আপঃ (৩।২।১ টীকা)।
সরলার্থ : তাহার পর আদিত্যের উত্তরদিকের যে রশ্মিসমূহ, তাহারাই ইহার উত্তর মধুনাড়ী; অথর্বাঙ্গিরস মন্ত্রসমূহই মধুকর; ইতিহাস ও পুরাণই পুষ্প; সেই যজ্ঞীয় জলই পুষ্পের অমৃত ।
মন্তব্য : অথবা একজন ঋষি; ঋগ্বেদে বহুস্থলে ইঁহার বিষয় উল্লিখিত হইয়াছে। ইনিই প্রথমে অরণিকাষ্ঠ হইতে অগ্নি উৎপন্ন করিয়া যজ্ঞ সম্পন্ন করেন (৬। ১৫। ১৭; ৬।১৬।১৩ ইত্যাদি)। অঙ্গিরার নামও ঋগ্বেদে বহুস্থলে পাওয়া যায়। কথিত আছে অঙ্গিরাই প্রথমে যজ্ঞ প্রবর্তন করেন (১০।৬৭।২; ১।৮৩।৪ ইত্যাদি)। অগ্নি যে কাষ্ঠে লুক্কায়িত থাকে অঙ্গিরা ইহা আবিষ্কার করিয়াছিলেন (৫।১১।৬)। অথবা ও অঙ্গিরা এই উভয় ঋষির কার্যই প্রায় এক প্রকার। এ জন্যই বোধ হয় উভয়ের নামে এক শব্দ হইয়াছে। অথবা ও অঙ্গিরা যে সব মন্ত্রের দ্রষ্টা, তাহাদের নাম ‘অথর্বাঙ্গিরস’। ব্রাহ্মণ (তৈঃ ব্রাঃ ১২।৮।২; শঃ ব্রাঃ ১১।৫।৬।৭); আরণ্যক (তৈঃ আঃ ২।৯,১০); উপনিষদাদি গ্রন্থে (বৃঃ উঃ ২।৪।১০, ৪।১।২ ইত্যাদি, তৈঃ উঃ ২।৩।১) ইহার উল্লেখ আছে। উত্তরকালে ইহাই অথর্ববেদ নামে পরিচিত হইয়াছে। ৭।১।২ মন্ত্রের অংশে আথবর্ণ শব্দের মন্তব্য দ্রষ্টব্য।