অথ যৎ সঙ্গববেলায়াং স আদিস্তদস্য বয়াৎস্যন্বায়ত্তানি
তস্মাত্তান্যন্তরিক্ষেহনারম্নণান্যাদায়াত্মানং পরপতন্ত্যাদি—
ভাজীনি হ্যেতস্য সামঃ ॥ ৪
অন্বয় : অথ যৎ (যাহা) সঙ্গববেলায়াম্ (সঙ্গব বেলাতে) সঃ আদিঃ (‘আদি’ এই নাম)। তৎ (সেই রূপের অনুগত) অস্য (এই আদিত্যের) বয়াংসি (পক্ষিগণ) অন্বায়ত্তানি (অনুগত)। তস্মাৎ (সেই জন্য) তানি (তাহারা) অন্তরিক্ষে অনারম্নণানি (ন আরণানি নিরালম্বভাবে) আদায় (লইয়া) আত্মানম্ (নিজ দেহকে) পরিপতন্তি (চতুর্দিকে উড়িয়া বেড়ায়)। আদিভাজীনি (‘আদি’ এই অংশের ভাগী) হি এতস্য সাম্নঃ (এই সামের)।
সরলার্থ : ‘সঙ্গব’-বেলায় আদিত্যের যে রূপ তাহাই ‘আদি’; পক্ষিগণ ইহারই অনুগত। এইজন্য তাহারা আকাশে নিজেদের দেহ লইয়া নিরালম্বভাবে উড্ডীয়মান হয়। এই সামের যে ‘আদি’ অংশ, তাহারা সেই অংশের ভাগী।
মন্তব্য : ‘সঙ্গববেলায়াম্’ ইত্যাদি—’সম্+গো’ হইতে ‘সঙ্গব’ হইয়াছে। নানা লোকে ইহার নানা অর্থ করিয়াছে—(ক) দুগ্ধ দোহন করিবার জন্য যখন গাভীদিগকে একত্র করা হয়; (খ) দুগ্ধ দোহন করিবার জন্য যখন গাভী ও বৎস একত্র হয়; (গ) দুগ্ধ দোহন করিবার পর বৎসগণ যখন দুগ্ধ পান করে; (ঘ) মাঠে যাইবার পূর্বে যখন গাভীসমূহ একত্র হয়; (ঙ) শঙ্কর বলেন ‘গো’ অর্থ সূর্যের রশ্মিও হইতে পারে। তাহা হইলে ‘সঙ্গব’ অর্থ হইবে যে, সময়ে সূর্যরশ্মির ‘সঙ্গমন’ হয়। ‘সঙ্গমন’ অর্থ সম্মিলন; মোক্ষমূলার এই স্থলে শঙ্করের এইরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছেন—when the Sun puts forth his rays.
এই খণ্ডের দিবসের পাঁচটি বিভাগ-স্থল হইয়াছে—(১) সূর্যের উদয়, (২) সঙ্গববেলা, (৩) মধ্যন্দিন, (৪) অপরাহ্ন, (৫) সূর্যের অস্তগমন। অথর্ববেদে (৯।৬।৪৫) এবং তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণেও (১।৫।৩।১; ৯।৪।৯।২) এই প্রকার বিভাগ করা হইয়াছে। সূর্যোদয়ের তিন মুহূর্তে পরে যে সময়, তাহাই ‘সঙ্গববেলা’।