স য এবমেতদ্বামদেব্যং মিথুনে প্রোতং বেদ মিথুনীভবতি মিথুনাত্
মিথুনাত্ প্রজায়তে সর্বমায়ুরেতি জ্যোগ্ জীবতি মহান্ প্ৰজয়া
পশুভির্ভবতি মহান্ কীর্ত্যা ন কাঞ্চন পরিহরেৎ তদ্ ব্রতম্ ॥ ২
অন্বয় : সঃ যঃ এবম্ (এইরূপে) এতৎ বামদেব্যম্ (বামদেব্য সাম) মিথুনে প্ৰোতম্ বেদ (জানেন); মিথুনীভবতি (তিনি মিথুনভাবে থাকেন); মিথুনাৎ মিথুনাৎ (প্রতি মিথুন ভাব হইতেই) প্রজায়তে (সন্তান উৎপন্ন হয়); সর্বম্ আয়ুঃ এতি, জ্যোক্ জীবতি, মহান্ প্রজয়া পশুভিঃ ভবতি মহান্ কীৰ্তা। ন (না) কাঞ্চন (কোন স্ত্রীলোককে) পরিহরেৎ (পরিত্যাগ করিবে)। তৎ (তাহাই) ব্রতম্।
সরলার্থ : বামদেব্য সামকে যে মিথুনে প্রতিষ্ঠিত বলিয়া জানে সে মিথুনভাবেই থাকে অর্থাৎ কখনও বিরহ ভোগ করে না; প্রতিবার মিলনেই তাহার সন্তান জন্মে। সে পূর্ণায়ু হয়, তাহার জীবন সমুজ্জ্বল হয়। সন্তান ও পশু সম্পদে সে মহীয়ান হয়, কীর্তিতেও মহান হয়। কোন স্ত্রীকেই পরিত্যাগ করিবে না— ইহাই তাহার ব্রত।
মন্তব্য : ‘ন কাঞ্চন পরিহরেৎ’—বর্তমান যুগে এই মত অতি ভীষণ ও দূষিত। কিন্তু সামাজিক নিয়ম সর্বদেশে ও সর্বযুগে এক প্রকার নয়। এখন আমরা যে প্রথাকে দূষিত মনে করিতেছি, এক সময় সর্বদেশেই সেই প্রথাকে আহারাদির মত একটা স্বাভাবিক ঘটনা বলিয়া মনে করা হইত। পাপ জ্ঞানমূলক। বিচার করিয়া যাহাকে অন্যায় বলিয়া বুঝা যায়, তাহার অনুষ্ঠানই পাপ। যেখানে অন্যায়বোধ নাই, সেখানে পাপও নাই। বিচারক্ষম ব্যক্তির পক্ষে যাহা পাপ, অবোধ শিশুর পক্ষে তাহা পাপ নয়। বর্তমান যুগে নরনারী সমাজের অনুমতি লইয়া বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হইতেছে। কিন্তু এমন এক সময় ছিল যখন তাহারা নিজেদের ইচ্ছাতেই সম্মিলিত হইত, তাহার জন্য অপর লোকের অনুমতি লওয়ার যে আবশ্যকতা তাহা বোধ করিত না। উপনিষদের এই অংশে যে ইচ্ছাপূর্বক অপবিত্রতার সমর্থন করা হইয়াছে তাহা বোধ হয় না। সম্ভবত ঐ যুগে এই প্রকার ঘটনা অপ্রচলিত ছিল না।