অথ খলু ব্যানমেবোদ্গীথমুপাসীত যদ্বৈ প্রাণিতি স প্রাণো ষদপানিতি সোহপানোহথ। যঃ প্রাণাপানয়োঃ সন্ধিঃ স ব্যানো যো ব্যানঃ সা বাক্। তস্মাদপ্রাণন্ননপানন্বাচমভিব্যাহরতি ॥ ৩
অন্বয় : অথ খলু ব্যানম্ এব (ব্যানকেই) উদ্গীথম্ উপাসীত (উদ্গীথরূপে উপাসনা করিবে)। যৎ (যঃ, যাহা) বৈ প্রাণিতি (প্রাণন কার্য করে, শ্বাস গ্রহণ করে), সঃ (তাহা) প্রাণঃ; যৎ (যাহা) অপানিতি (বায়ুকে অধোগামী করে), স অপানঃ। অথ যঃ (যাহা প্রাণ-অপানয়োঃ (প্রাণ ও অপানের) সন্ধিঃ (সংযোগ) সঃ ব্যানঃ। যঃ ব্যানঃ, সা (তাহা) বাক্। তস্মাৎ (সেই জন্য) অপ্রাণন্ (প্রাণন কার্য না করিয়া) অনপানন্ (অপান কার্য না করিয়া) বাচম্ (বাক্যকে) অভিব্যাহরতি (উচ্চারণ করে)।
সরলার্থ : তারপর ব্যানকেই উদ্গীথরূপে উপাসনা করিবে। যাহা প্রাণন কার্য করে, তাহাই প্রাণ; যাহা অপানন কার্য করে, তাহাই অপান; যাহা প্রাণ ও অপানের সন্ধি, তাহাই ব্যান। যাহা ব্যান তাহাই বাক্; সেইজন্য বাক্য উচ্চারণ করিবার সময় লোকে প্রাণন ও অপানন কার্য বন্ধ রাখে।
মন্তব্য : প্রাণকে সাধারণত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়; যথা— (১) প্ৰাণ, (২) অপান, (৩) ব্যান, (৪) উদান ও (৫) সমান। কিন্তু প্রাচীন গ্রন্থে কোন স্থলে চারি, কোন স্থলে তিন এবং কোন স্থলে বা কেবল দুইটি প্রাণের উল্লেখ আছে।
প্রাণাদির অর্থ— (ক) শঙ্কর বলেন, মুখ ও নাসিকা দ্বারা যে বায়ুকে নিঃসরণ করা হয়, তাহার নাম প্রাণ (উচ্ছ্বাস)। সায়ণ ও রুদ্রদত্তও এই অর্থ করেন। (খ) অপানের অর্থ বিষয়ে শঙ্কর ভিন্ন ভিন্ন স্থলে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ করিয়াছেন— (১) যে বায়ুকে অভ্যন্তরে আকর্ষণ করা হয়, তাহাই অপান। (২) যে বায়ুদ্বারা মূত্রপুরীষাদি অপনয়ন করা হয়, তাহাই অপান। বৃহদারণ্যক উপনিষদে বলা হইয়াছে (৩।২।২) ‘অপান বায়ুদ্বারা গন্ধ গ্রহণ করা যায়’। ইহা দ্বারা প্রথম অর্থ সমর্থিত হইতেছে। ‘প্রশ্ন’ ও পরবর্তী অনেক উপনিষদে এবং ‘বেদান্তসারে’ দ্বিতীয় অর্থ গৃহীত হইয়াছে। (গ) প্রাণ ও অপানের সন্ধিকে ব্যান বলা হয়। কোন ভার উত্তোলন করিতে হইলে নিশ্বাস-প্রশ্বাসের কার্য স্থগিত থাকে। বায়ুর এই অবস্থাকে ব্যান বলে। ‘অমৃতবিন্দু’ উপনিষদ্ ও বেদান্তসারাদি গ্রন্থের মতে যে বায়ু সর্ব-শরীরব্যাপী, তাহাই ব্যান। প্রশ্নোপরিষদে (৩।৬) লিখিত আছে যে, হৃদয়ে ১০১টি নাড়ী আছে এবং ইহার ৭২০০০ শাখানাড়ী আছে; এই সমুদয়ে ব্যান বায়ু বিচরণ করে। (ঘ) যে বায়ুদ্বারা পরিপাকাদি কার্য সম্পন্ন হয়, তাহাই সমান বায়ু (প্রঃ উঃ ৩।৫; মৈঃ উঃ ২।৬; বেদান্তসার ৩২)। প্রশ্নোপনিষদের এক স্থলে (৪।৪) লিখিত আছে যে, সমান বায়ু নিশ্বাস-প্রশ্বাসকে সমতা প্রাপ্ত করায়। (ঙ) প্রশ্নোপনিষদের এক স্থলে (৩।৭) লিখিত আছে উদান বায়ু জীবাত্মাকে পরলোকে লইয়া যায়। অন্য এক স্থলে (৪।৪) আছে, এই বায়ু সুষুপ্তিকালে মানুষকে ব্রহ্মপ্রাপ্ত করায়। বেদান্তসারের মতে এই বায়ু কণ্ঠস্থানীয় এবং ঊর্ধ্বগমনশীল।