সমান উ এবায়ং চাসৌ চোষ্ণোহয়মুষ্ণোহসৌ স্বর ইতীমমাচক্ষতে স্বর
ইতি প্রত্যাস্বর ইত্যমুং তস্মাদ্বা এতমিমমমুং চোদ্গীথমূপাসীত ॥ ২
অন্বয় : সমানঃ (সমান) উ এব অয়ম্ চ (এই প্রাণ) অসৌ চ (এই সূৰ্য); উষ্ণঃ (উষ্ণ) অয়ম্ (এই প্রাণ) উষ্ণঃ অসৌ (ঐ সূর্য)। স্বরঃ (স্বর) ইতি ইমম্ (ইহাকে, প্ৰাণকে আচক্ষতে (বলা হয়); স্বরঃ ইতি, প্রত্যাস্বরঃ ইতি অমুম্ (উহাকে, সূর্যকে)। তস্মাৎ বৈ (সেই জন্য) এতম্ ইমম্ (এই ইহাকে, প্রাণকে) অমুম্ চ (ঐ সূর্যকে) উদ্গীথম্ (উদ্গীথরূপে) উপাসীত।
সরলার্থ : এই প্রাণ এবং ঐ সূর্য উভয়ই সমান; ইহাও উষ্ণ এবং উহাও উষ্ণ; ইহাকে স্বর বলে এবং উহাকে স্বর ও প্রত্যাস্বর বলে। এই জন্য এই প্রাণকে এবং সূর্যকে উদ্গীথরূপে উপাসনা করিবে।
মন্তব্য : এখানে নিশ্বাস-প্রশ্বাসকে ‘স্বর’ বলা হইয়াছে। শঙ্কর বলেন—’স্বর’ শব্দ গতিসূচক; প্রাণ মৃত্যুর সময় নির্গত হয় (স্বরতি), এইজন্য ইহার নাম ‘স্বর’। সূর্য প্রতিদিন অস্তমিত হয় এই জন্য ইহার নামও ষর। কিন্তু সূর্য আবার প্রতিদিন প্রাতঃকালে প্রত্যাগমন করে। এই জন্য সূর্যকে প্রত্যাস্বরও বলা হয়। মোক্ষমুলার বলেন—সম্ভবত, ‘স্বর’ অর্থ নিশ্বাসের শব্দ। ‘ওম্’কে এই ছান্দোগ্য উপনিষদেই (১।৪।৩) ‘স্বর’ বলা হইয়াছে। ঋগ্বেদ প্রতিশাখ্যে ইহার একটি নাম ‘প্রস্বার’। যখন সূর্য সম্বন্ধে ‘স্বর ও ‘প্রত্যাস্বর’ বলা হয়, তখন সম্ভবতঃ ইহার অর্থ সূর্যের কিরণ এবং ইহার প্রতিফলিত কিরণ।